সারাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে ১,২,৩ আসনে তিন চৌকিদার রেখে গেলেন জামায়াতের আমির

  প্রতিনিধি ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:২২:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ

হাসিনুজ্জামান মিন্টু,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হলে একক দলের নয়, বরং সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সরকার গঠনের প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে জানান, নির্দিষ্ট তিনটি নীতিগত শর্ত পূরণ হলেই কেবল সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার পথে এগোতে চায় তার দল।

শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে দশ দলীয় ঐক্য জোটের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব কোনো একক গোষ্ঠীর পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। জাতির ভেতরে যে ঐক্যের শক্তি রয়েছে, সেই শক্তিকেই ভিত্তি করে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে।

তিনি ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, অতীতে নানা দল ও ব্যক্তিকে জনগণ সুযোগ দিয়েছেন। এবার কোনো একক দল নয়, বরং দেশের মুক্তিকামী মানুষের সমন্বয়ে গঠিত দশ দলীয় জোটকেই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াত আমির জানান, তারা ক্ষমতার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে বিশ্বাসী নন। ব্যক্তিগত স্বার্থ বা দলীয় আধিপত্যের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার যে প্রবণতা, সেটিকে তারা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।

সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনটি মৌলিক নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন—

প্রথমত, দুর্নীতির সঙ্গে কোনো ধরনের আপস নয়। নিজে দুর্নীতি করা যাবে না, আবার দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করার সংস্কৃতিও বন্ধ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বিচারব্যবস্থায় পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ কিংবা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য সমান ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি জোর দেন।

তৃতীয়ত, চাঁদাবাজি, দুঃশাসন ও দীর্ঘদিনের দুর্নীতির রাজনীতির অবসান ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে এসব অনিয়ম দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে বিপন্ন করেছে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে যে বৈষম্য গড়ে উঠেছে—অঞ্চলভিত্তিক, ব্যক্তি ও পরিবারভিত্তিক কিংবা দলীয় বিভাজন—সেসবের অবসান ঘটাতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদন নিয়ে বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।

একক শাসনের বিপরীতে জনগণের অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলেম-ওলামা, দক্ষ পেশাজীবী ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয়ে এমন একটি সরকার গঠন করা হবে, যারা দেশের স্বার্থে কোনো বিদেশি আধিপত্য মেনে নেবে না।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, এমন প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে—যারা মানুষের মর্যাদা বোঝে, দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে জানে আমি আপনাদের কাছে ঠাকুরগাঁও ১ ২ ৩ আসনে তিন জন চাহিদার হিসেবে দিয়ে গেলাম এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্ধুত্ব গড়বে, তবে কোনো প্রভুত্ব গ্রহণ করবে না।

 

আরও খবর 4

Sponsered content