কক্সবাজার

বঙ্গোপসাগর থেকে নৌবাহিনী কর্তৃক আটককৃত জেলেদের নির্দোষ দাবিতে কুতুবদিয়ায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

  প্রতিনিধি ৩ মার্চ ২০২৫ , ৯:৫৯:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি : গভীর সমুদ্রে নৌবাহিনীর অভিযানে আটককৃত ১৭ জন জেলেকে নির্দোষ দাবি করে শুক্রবার সকালে কুতুবদিয়া উপজেলা চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা মৎস্য জীবি সমবায় সমিতির সভাপতি আবুল কালামের নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ২৫০ থেকে ৩০০ জন জেলে এবং তাদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেন।

জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২ টার দিকে কুতুবদিয়ার পশ্চিমে ৬-৭ কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে বিএনএস সুরমা, চট্টগ্রাম নৌবাহিনীর টহল দল চোর সন্দেহে ৩টি নৌকা ও ১৭ জন জেলেকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে পতেঙ্গা থানায় ডাকাতি প্রস্তুতির মামলা রুজু করা হয়েছে।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশ গ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলে পরিবারের সদস্যদের দাবি, আটককৃত সবাই নির্দোষ এবং তারা মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, নৌবাহিনীর টহল দল নৌকা ও ট্রলার থেকে যে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার দেখিয়েছে, সেগুলো আসলে মাছ ধরার সরঞ্জাম, যেমন বরফ ভাঙার যন্ত্র, জালের রশি এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত ছুরি। এগুলো ডাকাতির অস্ত্র নয়। আটককৃত জেলেরা সবাই কুতুবদিয়া থানা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন যে তারা কেউই কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নন।

কুতুবদিয়া উপজেলা মৎস্য জীবি সমবায় সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, “আমাদের জেলেরা সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা করা সম্পূর্ণ অন্যায়। আমরা দাবি করছি, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক এবং এই মামলা প্রত্যাহার করা হোক।”

স্থানীয় বাসিন্দারা নৌবাহিনীর এই অভিযানের সমালোচনা করে বলেছেন, জেলেদের নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য পর্যাপ্ত তদন্ত করা হয়নি। তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জেলেদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে কুতুবদিয়া উপজেলায়। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। আটককৃত জেলেদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের মুক্তির জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নৌবাহিনী ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, দ্রুত এই বিষয়ে একটি সমাধান আসবে এবং আটককৃত জেলেরা তাদের পরিবারের কাছে ফিরে আসবেন।

আরও খবর 30

Sponsered content