Warning: Undefined variable $query in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Attempt to read property "post" on null in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Attempt to read property "ID" on null in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Undefined property: WP_Error::$cat_ID in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 92
কক্সবাজার

সাদা সোনার মাঠে কালো মেঘের আঘাত, দিশেহারা মহেশখালীর চাষিরা

  প্রতিনিধি ১২ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৫৪:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

শেখ আব্দুল্লাহ, মহেশখালী প্রতিনিধি: আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের মহেশখালীর বিস্তীর্ণ লবণ মাঠে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত ৭ ও ৮ এপ্রিল রাত প্রায় ১১টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় উৎপাদিত এবং উৎপাদনাধীন বিপুল পরিমাণ লবণ পানিতে মিশে গেছে। এতে প্রান্তিক লবণ চাষিদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এবং কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের লবণ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম, বড় মহেশখালী, হোয়ানক ও কালারমারছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন লবণ মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে জমাট বাঁধা ‘সাদা সোনা’ খ্যাত লবণের স্তূপ গলে গিয়ে পানির সঙ্গে মিশে গেছে। অনেক জায়গায় লবণ উৎপাদনের জন্য তৈরি করা ‘বেড’ বা ‘কাই’ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে চাষিদের আবার মাঠ প্রস্তুত করতে হচ্ছে।

চাষিদের মতে, লবণ মাঠ পুনরায় উৎপাদনের উপযোগী করতে অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন টানা রোদের প্রয়োজন হবে। এতে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

বড় মহেশখালীর হারিঘোনা এলাকার লবণ চাষি আনচার উল্লাহ বলেন,মৌসুমের শেষ দিকে এসে ভালো লাভের আশা ছিল। দিনরাত পরিশ্রম করে মাঠে লবণ তুলেছিলাম। কিন্তু মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই কয়েকশ’ মণ লবণ পানিতে মিশে গেছে। এখন আবার নতুন করে মাঠ প্রস্তুত করতে হবে, যা খুব ব্যয়বহুল।

কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা এলাকার চাষি গিয়াসউদ্দিন বলেন, লবণের বাজারদর আগেই কম ছিল। এখন এই ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। আমরা অনেকেই ঋণ করে লবণ মাঠ ইজারা নিয়েছি। এখন সেই ঋণ কীভাবে শোধ করব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

স্থানীয় চাষিরা জানান, বর্তমানে প্রতি মণ লবণের উৎপাদন খরচ প্রায় ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা হলেও বাজারে অনেক সময় এর চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ফলে অনেক চাষিই মৌসুমের শুরু থেকেই লোকসানের মধ্যে ছিলেন। এর মধ্যে আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ মৌসুমে দেশে প্রায় ২৭ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন লবণের চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা পূরণে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় প্রায় ৬৯ হাজার একর জমিতে ৪১ হাজারের বেশি চাষি লবণ উৎপাদনে নিয়োজিত রয়েছেন।

এর মধ্যে মহেশখালীতেই চলতি মৌসুমে প্রায় ১৭ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়ায় এখান থেকে গড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ফলে এই অঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হলে জাতীয় লবণ সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিসিক কক্সবাজার কার্যালয়ের (লবণ শিল্প উন্নয়ন) উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন,সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কয়েক হাজার একর লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে লবণ মাঠের লোনা পানি মিষ্টি হয়ে যাওয়ায় পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে চাষিদের অতিরিক্ত শ্রম ও জ্বালানি ব্যয় করতে হবে। এতে জাতীয় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লবণ শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের মোট লবণ উৎপাদনের বড় একটি অংশ কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকা থেকে আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অকাল বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা লবণ চাষের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার সমস্যা।

চাষিদের অভিযোগ, অনেক সময় স্থানীয় বাজারে লবণের দাম কমে যায় এবং মৌসুম চলাকালে লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে দেশীয় চাষিরা আরও ক্ষতির মুখে পড়েন। এতে প্রান্তিক লবণ চাষিরা ক্রমেই নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন।

এদিকে অধিকাংশ চাষিই ব্যাংক ঋণ বা স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে লবণ মাঠ ইজারা নিয়েছেন। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এমন ক্ষতি তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সংকট ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত লবণ চাষিরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা এবং লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এমপি বলেন,প্রাকৃতিক দুর্যোগে লবণ চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত লবণ চাষিদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

 

আরও খবর 30

Sponsered content