প্রতিনিধি ২২ মার্চ ২০২৬ , ১১:৫১:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টবাণী: টানা ঈদের ছুটিতে পর্যটকের পদভারে মুখরিত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের নগরী কক্সবাজার। ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) স্থানীয় দর্শনার্থীদের ঢল নামে সমুদ্র সৈকতে। আর ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় কানায় কানায় ভরে যায় সমুদ্র সৈকতের প্রতিটি পয়েন্ট।
বিকেলে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সমুদ্র সৈকতে ভিড় করেন পর্যটকরা।
বিশেষ করে সৈকতের আকাশে দীর্ঘ সময় ধরে ভেসে থাকা রংধনু, মেঘ সরে যাওয়ার পর দিনের শেষ বেলার মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত আর হিমেল হাওয়া পর্যটকদের ঈদ আনন্দ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের এক মাস নিস্তব্ধ ছিল সাগর পাড়। তবে ঈদের ছুটি শুরু হতেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর ঈদের আনন্দ—দুই মিলিয়ে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর এখন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।
সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে মানুষের সমাগম।পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আশা, এবার ঈদের ছুটিতে ১০ থেকে ১১ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসতে পারেন এবং প্রায় শতকোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা রয়েছে।
রোববার সৈকত ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণীসহ প্রতিটি পয়েন্টে মনের মতো সময় কাটাচ্ছেন। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সাথে সমুদ্রস্নান করছেন, পানিতে জেটস্কিতে চড়ছেন।
সাগরের ধারে বাইক আর ঘোড়া রাইড করছেন। সৈকতের বালিয়াড়ি, নীল জলরাশি আর হাওয়ার মিলনে মুহূর্তগুলো যেন আরও আনন্দময় হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে।
ঢাকার আশুলিয়া থেকে আসা পর্যটক ইমরান খান বলেন, পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এই প্রথমবার কক্সবাজারে এসেছি। তাই ঈদের আনন্দটা যেন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আরও তিন দিন থাকব আশা করছি, এই সময়টাতে সব জায়গা ঘুরে আরও বেশি উপভোগ করতে পারব।
’
কুমিল্লা থেকে আসা আব্দুল্লাহ বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে কক্সবাজার আসা স্বপ্নের মতো। সমুদ্র, পাহাড় আর সবুজ বন—সবই সত্যিই অসাধারণ।
চট্টগ্রাম থেকে আসা মামুন-রুমি দম্পতি বলেন, বিয়ের পর প্রথম কক্সবাজারে এসে খুব ভালো লাগছে। সমুদ্র সৈকতে শুনেছিলাম ঝুপড়ি দোকান ছিল, এখন দেখি একদম পরিষ্কার—অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি টিম ও গোয়েন্দা টিম মাঠে সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি টিম পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে।
সৈকতের বিচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। সৈকতে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং পর্যটকদের সতর্ক করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, পর্যটকরা যেন সমুদ্রস্নান ও বিনোদন উপভোগ করতে পারেন। ঈদের দিন থেকে অনেকের ছুটি বাতিল হয়েছে।
কক্সবাজার সি সেইফ লাইফ গার্ডের জয়নাল আবেদিন বলেন, ঈদের এ ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা দিয়ে সতর্ক করছি এবং পর্যটকদের নিরাপদে সমুদ্রস্নান নিশ্চিত করছি। পর্যটকদের সেবায় আমরা নিয়োজিত রয়েছি।
তারকা হোটেল কক্স-টুডের জেনারেল ম্যানেজার আবু তালেব বলেন, আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত হোটেলের প্রায় রুম বুকিং রয়েছে। রমজানে একদম পর্যটকবিহীন ছিল কক্সবাজার। এখন পর্যটকের আগমনে মুখর হয়ে উঠেছে।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ঈদের পরদিন থেকেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসতে পারেন এবং এ ধারা টানা প্রায় ১০ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে পর্যটন খাত থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা আশা করা যাচ্ছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) সাজেদুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় জেলা পুলিশের টিম ও বিভিন্ন সাদা পোশাকের টহল দল সক্রিয় রয়েছে। পর্যটক হয়রানিতে আমরা কাউকে ছাড় দেব না।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে পর্যটন নগরীতে। এ লক্ষ্যে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় আর কোনো দোকান বসতে দেওয়া হবে না। আমরা চাই পর্যটন এলাকায় বিশ্বমানের সৌন্দর্য ফিরে আসুক।