উত্তর চট্টগ্রাম

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস : ব্যাডমিন্টনে জেলা চ্যাম্পিয়ন সীতাকুণ্ডের মেয়েরা, ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ইতিহাস

  প্রতিনিধি ৯ মে ২০২৬ , ১২:১০:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

মো:রমিজ আলী, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাইফেলস ক্লাবে-এ অনুষ্ঠিত “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬” ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে সীতাকুণ্ড উপজেলার মেয়েরা। বালিকাদের একক ও দ্বৈত—উভয় বিভাগেই জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা শুধু একটি শিরোপাই জিতেনি, বরং পুরো সীতাকুণ্ডের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে।

প্রতিযোগিতায় একক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন রাশি নাথ সাথী। তিনি বাড়বকুণ্ড উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ-এর ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ম্যাচজুড়ে তার অসাধারণ স্ট্যামিনা, দ্রুত রিটার্ন, নিখুঁত কোর্ট কন্ট্রোল এবং আত্মবিশ্বাসী খেলায় প্রতিপক্ষ একের পর এক চাপে পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত একক বিভাগে তিনি নিশ্চিত করেন চ্যাম্পিয়ন ট্রফি।

অন্যদিকে দ্বৈত বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন সুরাইয়া জান্নাত নাবিহা ও তামান্না সুলতানা। নাবিহা চিটাগং কেমিক্যাল কমপ্লেক্স স্কুল এবং তামান্না মাহমুদাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়-এর ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কৌশলগত আক্রমণ প্রতিপক্ষকে বারবার হতবাক করে দেয়। একের পর এক ম্যাচ জিতে তারা দ্বৈত বিভাগেও জেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

এই সাফল্যে সীতাকুণ্ডজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার। স্কুল, পরিবার, স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে গর্ব ও উচ্ছ্বাসের পরিবেশ। অনেকেই বলছেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও মেয়েদের এই অর্জন প্রমাণ করে—সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে গ্রামের প্রতিভাও জাতীয় পর্যায়ে আলো ছড়াতে পারে।

চ্যাম্পিয়ন দল ও খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়েছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সীতাকুণ্ডের মেয়েরা আজ যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। এ ধরনের সাফল্য ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়।”

এছাড়া জেলার বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, শিক্ষক সমাজ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই অর্জনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে তরুণ খেলোয়াড়দের আরও এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
দলের ম্যানেজার ইফতেখার আহম্মদ জুয়েল বলেন, “এই মেয়েরা অত্যন্ত পরিশ্রমী ও মেধাবী। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উন্নত সরঞ্জাম এবং পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে তারা ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে।”

কোচ মোঃ ইমরান হুদা জানান, সীমিত অবকাঠামো ও সুযোগের মধ্যেও মেয়েদের মানসিক দৃঢ়তা এবং নিয়মিত অনুশীলনই এই সাফল্যের মূল কারণ।
এদিকে ক্রীড়া বিশ্লেষক ও সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু সীতাকুণ্ড নয়, দেশের গ্রাম-গঞ্জ থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আরও গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দক্ষতা গঠনে সহায়তা করে।
তারা আরও বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা এই ধরনের সাফল্য প্রমাণ করে—যদি পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, সুযোগ-সুবিধা এবং পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়, তাহলে গ্রাম-গঞ্জের ছেলেমেয়েরাও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে সক্ষম।

সীতাকুণ্ডের এই সাফল্য তাই শুধু একটি ক্রীড়া অর্জন নয়, বরং এটি সম্ভাবনা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক শক্তিশালী বার্তা—সুযোগ পেলে গ্রাম থেকেই জন্ম নেয় দেশসেরা প্রতিভা।

আরও খবর 27

Sponsered content