প্রতিনিধি ২৪ মার্চ ২০২৬ , ১১:২৬:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের ডি-ফ্যাক্টো শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান এটিকে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে একাধিকবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন সৌদি যুবরাজ। এসব আলোচনায় তিনি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে তুলে ধরে, কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
এমনকি তেহরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা এবং সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
দুই শাসকের আলোচনা সম্পর্কে জ্ঞাত কয়েকজনের ভাষ্য যুবরাজ মোহাম্মদ নাকি ট্রাম্পকে বলেছেন, ইরানের কট্টরপন্থী সরকারকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তার যুক্তি, উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ইরান একটি দীর্ঘমেয়াদি হুমকি; যা কেবল সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমেই দূর করা সম্ভব।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের দৃষ্টিতে এমন একটি পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য, যেখানে ইরান অভ্যন্তরীণ সংকটে জড়িয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন; তাদের আশঙ্কা, ইরান যদি সম্পূর্ণভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, তাহলে তা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে উদ্বেগও বাড়ছে। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ইরান সৌদি তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও একটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক জড়িত থাকার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।ইতোমধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব-পাল্টা জবাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর।
তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছে সৌদি সরকার। তাদের দাবি, দেশটির সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, সংঘাত শুরুর আগেই সৌদি আরব সবসময় এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানকে সমর্থন করে এসেছে।
বর্তমানে আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো আমাদের জনগণ এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর চলমান দৈনিক হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করা। ইরান গঠনমূলক কূটনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে বিপজ্জনক উত্তেজনার পথ বেছে নিয়েছে।
সৌদি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের অবস্থান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইরান নিজেই।
অন্যদিকে ট্রাম্পের অবস্থান প্রকাশ্যে কিছুটা দোদুল্যমান। কখনও তিনি দ্রুত সমাধানের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, আবার কখনও সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ হয়েছে এবং একটি ‘সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাধান’ নিয়ে অগ্রগতি রয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস