প্রতিনিধি ৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:৩৪:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ

মো. রমিজ আলী, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: প্রকৃতির রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড। সাগরের নীল জলরেখা আর পাহাড়ঘেরা পরিবেশের মাঝে ফুলের সুবাসে মোহিত হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকায় সাগর উপকূলে গড়ে তোলা নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন ‘ডিসি পার্ক’-এ শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ফুল উৎসব ২০২৬। রঙ, ঘ্রাণ আর নান্দনিক সৌন্দর্যের অপূর্ব মেলবন্ধনে পুরো পার্ক এলাকা যেন পরিণত হয়েছে এক স্বপ্নিল ফুলের রাজ্যে।
আজ সকাল ১১টায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ এবং চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনায় ভরপুর সীতাকুণ্ডকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও দৃশ্যমান করতেই এই আয়োজন। তারা জানান, ডিসি পার্ককে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এবারের ফুল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দেশি ও বিদেশি ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলে সাজানো হয়েছে পুরো ডিসি পার্ক। গোলাপ, গাঁদা, ডালিয়া, পেটুনিয়া, অর্কিড, সূর্যমুখীসহ নানা রঙ ও জাতের ফুলের সমারোহ দর্শনার্থীদের চোখ জুড়িয়ে দিচ্ছে। ফুল দিয়ে নির্মিত নান্দনিক ফোয়ারা, থিম গার্ডেন ও আলোকসজ্জা পার্কের সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে।
আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাসব্যাপী এই ফুল উৎসব চলবে। উৎসব চলাকালীন বিশ্বের ১৬টি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরবেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ পরিবেশনা ও নৃত্য।
আয়োজকরা জানান, এই ফুল উৎসব শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়—এটি পরিবেশ সচেতনতা, সৌন্দর্যবোধ জাগ্রত করা এবং পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তাদের আশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে সীতাকুণ্ড দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আরও পরিচিত হয়ে উঠবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ফুলের সুবাসে ভরে উঠা ডিসি পার্কে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়। প্রকৃতিপ্রেমী মানুষদের কাছে এই ফুল উৎসব ইতোমধ্যেই হয়ে উঠেছে এক অনন্য আকর্ষণ।