প্রতিনিধি ২৬ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:১০:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

অরুণ নাথ : বর্তমানে আমরা অস্থির সমাজে বসবাস করছি। পৃথিবীব্যাপী যুদ্ধের বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় পুরো বিশ্ব গভীর সংকটে। সংকট উত্তরণে মানবিকতা ও সহনশীলতার কোন বিকল্প নেই। তাই মানবিক সমাজ বিনির্মানে সাংস্কৃতিক চর্চা অপরিহার্য। শিশু মনে শিক্ষার পাশাপাশি মানুষকে ভালবাসার ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হলে তাদের সাংস্কৃতিক চর্চায় অধিকতর আগ্রহী করে গড়ে তুলতে হবে। মব সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা এবং অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার নিমিত্তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
সকালে ২৪ এপ্রিল সঙ্গীত পরিষদের ৮৭তম বর্ষপূর্তি উৎসবে প্রধান অতিথি আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান এম.পি উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন। চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনিন্সিটিউটে সকাল ৯.৩০মিনিটে পরিষদ আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিষদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুল মতিন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সম্পাদক তাপস হোড়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাক্তন পিএইচপি গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন, রোটারি গর্ভনর রোটারিয়ান প্রকৌশলী মতিউর রহমান, অর্পণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবু তালেব বেলাল। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিষদের সহ-সভাপতি মীর নাজমুল আহসান রবিন, কোষাধ্যক্ষ সাজেদুল হক হাসান ও অষ্টেলিয়া প্রবাসী প্রকৌশলী ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে ২ জন প্রবীন শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁরা হলেন শিল্পী শাহরিয়ার খালেদ ও শিল্পী শাহজাহান খান। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। এরপরে আগুনের পরশমণি গানের মধ্য দিয়ে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন পরিষদ পরিচালনা কমিটির সদস্য সাইফুর রহমান চৌধুরী, ওমর আলী ফয়সাল ও এড. আয়শা আক্তার সানজু প্রমুখ। ১১.৩০মিনিটে হতে ‘সত্যেরে লও সহজে’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সঙ্গীত পরিষদের প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী এতে অংশগ্রহণ করে। বিকেল ৪টায় ২য় পর্বের অনুষ্ঠানে ছিল ‘শ্যামল সুন্দর’ শীষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সকালের অনুষ্ঠানে বিগত বার্ষিক পরীক্ষায় যারা ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকার করেছে তাদের পুরস্কৃত করা হয়। দুই পর্বের অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন অধ্যাপক দেবাশীস্ রুদ্র, মনীষা রায় ও পূজা দেবী। সকালে এবং বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসমূহ পরিচালনা করেন পরিষদের শিক্ষকবৃন্দ যথাক্রমে অধ্যক্ষ প্রদীপ সেনগুপ্ত, অধ্যাপক পিন্টু ঘোষ, অধ্যাপক সুচিত্রা চৌধুরী, প্রমিত বড়ুয়া, অন্তরা দাশ, বনানী চক্রবর্তী, মনীষা রায়, প্রিয়ম কৃষ্ণ দে, শিউলি মজুমদার, হ্যাপী ঘোষ, অধ্যাপক দেবাশিস্ রুদ্র, মৌসুমী কর, রাজীব চক্রবর্তী, ত্রিদিব বৈদ্য, দীপ্ত দত্ত, পলাশ চক্রবর্তী, রিপন সেনগুপ্ত, দেবাশীষ দাশ, অভিষেক দাশগুপ্ত, সেতু ধর, এস.এম একরাম, অনজন দাশ, সুখরঞ্জন হালদার, দিপ্তি মজুমদার, চন্দ্রিমা বিশ্বাস, তন্বী বড়ুয়া, সিলভী বড়ুয়া। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বেবী প্রভা দে ও মৌমিতা বিশ্বাস। সঙ্গীত পরিষদের দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রচুর দর্শক সমাগম হয় এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সকল পরিবেশনা দর্শকদের মোহিত করেছে।