উত্তর চট্টগ্রাম

ভুজপুরে সড়কের গাছ কেটে নিলেন এক প্রধান শিক্ষক

  প্রতিনিধি ৭ জুলাই ২০২৫ , ১০:৫৫:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: ফটিকছড়ি উপজেলা ভুজপুর থানার নারায়নহাট স্হানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এল জিই ডি) সড়কের গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে। গত ৪ জুলাই শুক্রবার ও ৫ জুলাই শনিবার দুই দিনে এসব গাছ কাটেন তিনি। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম মোঃ হারুনুর রশীদ।

তিনি ফটিকছড়ি উপজেলা ভুজপুর থানার নারায়নহাট পশ্চিম ইদুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। গাছ কাটার কথা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মৌখিক অনুমতি কথা বললেও বন বিভাগ বলছেন তারা জানে না।

স্হানীয় সূত্র জানাই গহিরা-হেয়াকো প্রধান সড়কের হালদা ভ্যালী চা-বাগান সংযোগ সড়কের পাশে রোপিত প্রায় ৪০ টি ইউক্যালিপ্টাস ও আকাশমণি গাছ দুই দিন ধরে দিন দুপুরে কেটে ফেলেন। এসব গাছ স্হানীয় ব্যবসায়ীদের নিকট মোটা অংকের বিনিময়ে বিক্রি করে দেন।পরবর্তী তারা ছয় ভাই-বোন মিলে ভাগ-বাঁটোয়ারা করেন। এইসব গাছ কাটার মৌখিক অনুমতি নিয়েছেন বলেও কাগজে-কলমে লিখিত অনুমতি প্রয়োজন মনে করেননি ওই প্রধান শিক্ষক।

প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদ জানান সড়কটির পাশে তার পৈতৃক জমি রয়েছে। দীর্ঘ কাল ধরে গাছ গুলো আমার পরিবার রোপণ করেছেন।আশেপাশের অনেকেই এই গাছ কেটেছেন।তাদের ও কোনো অনুমতি নেননি। আমি মৌখিক ভাবে বন বিভাগের লোককে অবহিত করলেও কাগজে-কলমে অনুমতি লাগবে সেটি বুঝিনি। সেটা আমার অপরাধ হয়েছে।

স্হানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি সড়কের গাছ ব্যক্তিগত মালিকানায় হওয়ার প্রশ্নই উঠে না।এটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও লোভপ্রসুত কাজ। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ভুজপুর থানার নারায়নহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ নাছির উদ্দীন বলেন, বনবিভাগ থেকে এসব গাছ কাটার অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন।অথচ তিনি কাউকে না জানিয়ে সড়কের গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি শিক্ষক হিসেবে এই ভাবে সরকারি গাছ কাটার অধিকার তার নেই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাসান মুরাদ চৌধুরী বলেন একজন শিক্ষক হয়ে এমন গর্হিত কাজ করতে পারেন না তিনি। এটি মোটেই ঠিক হয়নি।

নারায়নহাট রেঞ্জর কর্মকর্তা খান মোঃ আবারারু রহমানের নিকট ফোনে জানতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী বাবু তন্নয় নাথ বলেন, বিধি অনুযায়ী ব্যক্তিগত পর্যায়ে সরকারি সড়কের গাছ কাটার কোনো নিয়ম নেই। সরকারি গাছ কাটতে হলে বিধি অনুসরণ মানতে হয়। বন বিভাগের ছাড়পত্র নিতে হয়। নারায়নহাট শৈলকূপা এলাকায় সড়কের অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সবার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জানা ছিলনা।খোঁজ খবর নিয়ে এই ব্যপারে একটি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর 27

Sponsered content