দক্ষিণ চট্টগ্রাম

আনোয়ারায় বাকখাইন-কেঁয়াগড় নতুন স্লুইসগেটের নির্মাণ কাজ শুরু, ছয় গ্রামের মানুষের মাঝে স্বস্তি

  প্রতিনিধি ২৬ নভেম্বর ২০২৫ , ১০:২০:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ

মো: সোহেল, আনোয়ারা প্রতিনিধি : আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের বাকখাইন কান্দরিয়া খালের মুখে বিলীন হয়ে যাওয়া স্লুইস গেট নির্মিত হচ্ছে দীর্ঘ পাঁচ বছর পরে। এতে স্বস্তি ফিরেছে ওই এলাকার মানুষের মাঝে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নে ২৪ এর জুলাই গণহত্যায় শহীদের সম্মানে জুলাই-৩৬ স্মৃতি নামের স্লুইসগেট নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করা হয়।

জানা যায়, বাকখাইন-কেঁয়াগড় স্লুইসগেটটি নির্মাণের দুই বছর না যেতে ২০২১ সালে জোয়ারের পানিতে পুরোপুরি তলিয়ে যায়। ফলে প্রতিদিন উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের কেঁয়াগড়, সিংহরা, ৫ নম্বর ওয়ার্ড, ডুমুরিয়া, রূদুরা ও পটিয়া উপজেলার বাকখাইন গ্রামে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। এতে এসব জায়গায় ৬০০ একর জমিতে কৃষি, মৎস্য চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়া পুরো গ্রামে জোয়ারের পানিতে স্কুলের শিক্ষার্থীদের চলাচলের বিঘ্ন হওয়া ছাড়াও জনজীবনে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ নিয়ে এসব গ্রামের মানুষদেরকে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। অবশেষে নতুন স্লুইস গেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এটি নির্মাণে ব্যায় হবে ২২ কোটি টাকার বেশি।

এদিকে স্লুইসগেট নির্মাণের খবরে স্বস্তি ফিরেছে এসব এলাকার মানুষের মাঝে। স্লুইস গেট বাস্তবায়ন হলে এলাকায় চাষাবাদে উন্নয়নের পাশাপাশি ছয় গ্রামের মানুষের জনজীবনে দুর্ভোগ লাঘব হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, পাঁচ বছর আগে বাকখাইন-কেঁয়াগড় স্লুইসগেট ভেঙে পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়৷ এতে নানান দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে আমাদের। অবশেষে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন স্লুইসগেট। এটির নির্মাণ কাজ হলে আমাদের দুঃখ কষ্ট লাঘব হবে। বিগত সময় একটি স্লুইসগেট নির্মাণ হলেও ব্যাপক দূর্ণীতির কারণে ভেঙে বিলীন হয়ে যায়। এবারো এটি নির্মাণে দূর্ণীতি অনিয়ম না করতে যথাযত তদারকি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান বলেন, ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬-ভেন্ট বাকখাইন-কেঁয়াগড় স্লুইচগেট নির্মাণ কাজ আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারীতে শেষ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ এলাকার প্রায় ৫ হাজার কৃষক উপকৃত হবে। জুলাই শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে এই প্রকল্পের নাম জুলাই ৩৬ স্মৃতি রাখা হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে জুলাই এর দুই হাজার শহীদ ও হাজার হাজার আহতদের উৎসর্গ করে ‘জুলাই-৩৬ স্মৃতি’ নামকরণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি স্থানীয়দের জোর দাবির প্রেক্ষিতে জুলাই পরবর্তী সময়ে এত বড় প্রকল্প পেয়েছে আনোয়ারাবাসী। বিগত সময়ে এখানে স্লুইস গেইট নির্মাণ করা হলেও অনিয়মের কারণে এক বছরেই তা তলিয়ে গেছে, এপ্রকল্পে কোন ধরণের অনিয়ম হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য ও চট্টগ্রাম বেসরকারি কারা পরিদর্শক জুবাইরুল আলম মানিক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান, আহত জুলাই যুদ্ধা জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, নাঈম উদ্দিন, এনসিপির উপজেলা যুগ্ন সমন্বয়কারী ডালিয়া বড়ুয়া, দক্ষিণ জেলা এনসিপির সদস্য একেএম মোরশেদ, দিদারুল আলম সহ আরও অনেক।

আরও খবর 28

Sponsered content