শিল্প-সাহিত্য

সংবর্ধনা প্রাপ্তি হোক সঠিক যোগ্যতায়

  প্রতিনিধি ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , ৯:২২:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ

আসিফ ইকবাল: ভাষাবিজ্ঞানী মনীষী ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন যে দেশে গুণীর কদর হয়না,সে দেশে গুণীর জন্ম হয়না। কথাটার গভীর সত্য অন্তর্নিহিত থাকলেও বর্তমানে গুণীর সংখ্যা উল্টো বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সংবর্ধনা প্রদানের প্রতিযোগিতা জোরালো হচ্ছে,।এটা আমাদের জন্য যেমন সুখবর তেমনি অন্যদিকে আমাদের জন্য ভাববার বিষয়।কেননা যাকে তাকে হুট করা সংবর্ধনা বা সম্মাননা প্রদান তেমন বেশি আনন্দ বা উপকারের বিষয় না।মনে রাখতে হবে প্রকৃত গুণীজনকে সঠিক সংবর্ধনা দেয়ায় আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

প্রকৃত গুণীজন নির্বাচনে আমাদেরকে অবশ্যই সেই গুণী ব্যক্তির অর্থনৈতিক বিষয়টি পুরোপুরি বর্জন করা জরুরী।কেননা এখন অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা বা সহযোগিতার জন্যই আমরা অনেক সময় যাকে তাকে সংবর্ধনা বা সম্মাননা দিয়ে থাকি।গুণীজন বা বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে সংবর্ধনা প্রদানে আমাদেেকে লক্ষ্য রাখতে উপযুক্ত ব্যক্তিকে উপযুক্ত বিষয়ে সংবর্ধনা প্রদান করা। যে ব্যক্তি যে বিষয়ে বা ক্যাটাগরিতে যোগ্য না তাকে সেই বিষয়ে সংবর্ধনা বা সম্মাননা প্রদান কোনমতেই গ্রহণযোগ্য বিষয় না।এমনকি আমাদেরকে মনে রাখতে যাকে সংবর্ধনা বা সম্মাননা প্রদান করব তার কাজ বা ত্যাগের মুল্যায়ন করব বিপরীতে তার অর্থনৈতিক বিষয়টা যাতে কোনমতে সংবর্ধনায় প্রভাব বিস্তার করতে না পারে ।

কেননা আজকাল অনেক সংবর্ধনা বা সম্মাননা অনেক সময় অর্থের প্রভাব খুব বেশি প্রভাবিত করছে। একটি সংবর্ধনা বা সম্মাননা একজন ব্যক্তির সারাজীবনের কর্মের অনন্য স্বীকৃতি সেখানে আমরা অনেকক্ষেত্রেই অতিসহজে অনেক সম্মাননা অর্জন করে নিচ্ছি। প্রকৃত গুণীজনকে সংবর্ধনা প্রদান করা সম্ভব না হলে সে সংবর্ধনা প্রদান না করায় উত্তম। সঠিক মানুষ সঠিক বিষয়ে সম্মাননা প্রদানেই সমাজ দাযবদ্ধ।বরং সঠিক মানুষের বিপরীতে কম যোগ্য মানুষকে সংবর্ধনা বা সম্মাননা প্রদান করাটা আমাদের জন্য হুমকিস্বরুপ।

আর আমরা যাকে বা যাদেরকে সংবর্ধনা প্রদান করিনা কেন তাদেরকে অবশ্যই উপযুক্ত মর্যাদা,আর্থিক সম্মানি এবং সার্বিক বিষয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংবর্ধিত অতিথির মর্যাদায় আমরা যাতে কোনরকম প্রশ্ন বা বিভ্রান্তের মুখোমুখি দাঁড় না করায়।মনে রাখতে হবে সম্মান দিতে গিয়ে আমরা যেন তাকে অসম্মানের দিকে ঠেলে না দিই।একটা সঠিক সম্মাননা একজন যোগ্য মানুষকে যেমন মুল্যায়নের অনন্য প্রন্হা অনুরুপ সম্মাননা প্রাপ্ত ব্যক্তির জীবনকে আরো বেশি সাফল্যময়তা এনে দিতে সক্ষম হয়।আসুন সুন্দর সমাজ,গুণীর কদর বাড়াতে মেধা এবং সততার মুল্যায়নে সমাজের প্রকৃত গুণীজনকে যথাযথ সম্মান দিতে চেষ্ঠা করি।লোকদেখানো কিংবা অর্থবৃত্তের প্রভাবময় বা অযোগ্য কাউকে যেন আমরা সংবর্ধনা প্রদান করা থেকে বিরত থাকি।যাতে করে নতুন প্রজন্ম সঠিক প্রেরণা ও উৎসাহ পায়। সমাজের গুণীজনগুলোর মর্যাদা চির অক্ষুণ্ন থাকুক।

লেখকঃ কবি,সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক।

আরও খবর 32

Sponsered content