প্রতিনিধি ৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:৫৭:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টবাণী: শেষ দিনে চট্টগ্রামের সাতটি আসনের মনোনয়ন যাচাই বাছাই করা হয়েছে। এতে ১৫ জনের মনোনয়ন বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তারা। রোববার (৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-১০ আসন এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-১৩, চট্টগ্রাম-১৪, চট্টগ্রাম-১৫ এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মনোনয়ন যাচাই বাছাই করা হয়।
এতে চট্টগ্রাম-১০ আসনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী আরমান আলী ও মো. ওমর ইউসুফ খানের মনোনয়ন বাতিল হয় এক শতাংশ ভোটারের তথ্যের গরমিল থাকায়। একই আসনে ফরম নং ১১ পূরণ না করায় জাতীয় পার্টির এমদাদ হোসেন এবং জামানতের টাকা ভুল কোডে জমা দেওয়ায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির ওসমান গণির মনোনয়ন বাতিল হয়। হলফনামায় স্বাক্ষর না করায় বাতিল হয়েছে ওই আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আলী ওসমানের।
এদিন চট্টগ্রাম-৯ আসনে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা এবং হলফনামায় স্বাক্ষর না করায় বাতিল হয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আবদুল মোমেন চৌধুরীর এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রমাণ না থাকায় বাতিল হয় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী একে এম ফজলুল হকের।
এছাড়া এক শতাংশ ভোটারের তথ্যের গরমিল পাওয়া এবং নতুন হিসাব না খোলায় বাতিল হয় মিলন কান্তি শর্মার মনোনয়ন। ঋণ খেলাপি ও সিটি করপোরেশনের বিল খেলাপি হওয়া বাদ পড়ে ওই আসনের নগরিক ঐক্যের নুরুল আবছার মজুমদারের মনোনয়নও।
চট্টগ্রাম-৮ আসনে দলীয় মনোনয়নে নমুনা স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য না হওয়া কমিউনিস্ট পার্টির সেহাব উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল হয়। এছাড়া, ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকায় বাতিল হয় স্বতন্ত্র প্রার্থী আজাদ চৌধুরীর মনোনয়ন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ে চট্টগ্রাম-১৩ আসনে আলী আব্বাসের মনোনয়ন বাতিল হয় সমর্থনকারীর স্থানে নিজে স্বাক্ষর করায়। একই আসনে ঋণ খেলাপি হওয়ায় বাদ পড়েছে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মুজিবর রহমানের মনোনয়নও।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এক শতাংশ ভোটারের তথ্যের সত্যতা না পাওয়ায় বাদ পড়ে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুল হক চৌধুরী ও মো. নুরুল আনোয়ারের মনোনয়ন। তাছাড়া চট্টগ্রাম-১৬ আসনে হলফনামা ও অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর না করায় গণ অধিকার পরিষদের আরিফুল হকের মনোনয়ন ফরম বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তা।
তবে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে কারো মনোনয়ন বাতিল হয়নি এ দিন।
এদিকে, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে মনোনয়ন বৈধ হয়েছেন- জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) মোহাম্মদ এমরান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মু. রেজাউল মোস্তফা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরওয়ার জামাল নিজাম, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ ইমরান ও জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে মনোনয়ন বৈধ হয়েছেন- বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মৌ. মো. সোলাইমান, এলডিপির ওমর ফারুক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জসীম উদ্দীন আহমেদ, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ বাদশা মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এইচএম ইলিয়াছ।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বশির আহমেদ জানান, যাচাই বাছাইয়ের শেষ দিন ছিল আজ। এতে বেশ কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা চাইলে আপিলকারী কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। মনোনয়ন বৈধ প্রার্থীর তালিকা কয়েকদিন পর জানা যাবে।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ জানুয়ারি থেকে মনোনয়ন যাচাই বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। যা শেষ সময় ছিল ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।