মহানগর

চবিতে ৫৪৭ দিনে ৪২৫ জন নিয়োগ

  প্রতিনিধি ৮ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:০১:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টবাণী: চবিতে স্বল্প সময়ে সর্বোচ্চ নিয়োগের রেকর্ড গড়েছেন সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্‌ইয়া আখতার। মাত্র ৫৪৭ দিনে তাঁর আমলে ৪২৫ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচটি সিন্ডিকেট বৈঠকের মাধ্যমে এসব নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। প্রতিটি বৈঠকে গড়ে প্রায় ৮৫ জনের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এত স্বল্প সময়ে এত বেশি নিয়োগের নজির এর আগে চবির কোনো উপাচার্যের আমলে দেখা যায়নি। জাতীয় নির্বাচনের আগে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে উপাচার্য ভেঙেছেন প্রথাও।সিন্ডিকেটের বৈঠক ডেকেছেন শুক্রবার। সর্বশেষ বৈঠক করেছেন তিনি একুশে ফেব্রুয়ারির মতো জাতীয় দিবসেও।

সদ্য বিদায়ী উপাচার্য ইয়াহ্‌ইয়া আখতারের অনেক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পছন্দের লোক দিয়ে নিয়োগ বোর্ড সাজিয়ে এক উপ-উপাচার্যের মেয়ে, আরেক উপ-উপাচার্যের গবেষণা সহযোগী, রেজিস্ট্রারের ভাই, এক প্রভোস্টের স্ত্রী এবং আরেক প্রভোস্টের ছেলেকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে কলা অনুষদে ফলাফলের গ্রেড কমিয়ে পরিবর্তন আনা হয় নীতিমালায়।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ৪২৫ জনের মধ্যে শিক্ষক রয়েছেন ১২২ জন, যা মোট নিয়োগের প্রায় ২৯ শতাংশ। কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছেন ২২ জন (৫ শতাংশ) এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছেন ২৮১ জন, যা মোট নিয়োগের ৬৬ শতাংশ।

এর আগে চবির বিভিন্ন উপাচার্যের আমলে দীর্ঘ সময়ে তুলনামূলক কম সংখ্যক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ২০০৯-১০ সালে উপাচার্য আবু ইউসুফের আমলে ২১ মাসে নিয়োগ পান ৮৮ জন। ২০১১ থেকে ২০১৫ সালে আনোয়ারুল আজিমের চার বছরে নিয়োগ পান ৫৯৯ জন। ২০১৫-১৯ সালে ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর আমলে চার বছরে নিয়োগ পান ৫৩২ জন। আর ২০১৯-২৪ সালে শিরীণ আখতারের সময়ে সোয়া চার বছরে নিয়োগ পান ৩১৬ জন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এই তৎপরতা বাড়ানো হয়। এজন্য নিয়মিত কর্মদিবসের বাইরে গিয়ে সিন্ডিকেট বৈঠক আয়োজনের নজিরও তৈরি হয়েছে। তবে নিয়োগের এই রেকর্ড ঘিরে আলোচনা-সমালোচনাও রয়েছে। বিভিন্ন মহলে নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা, প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বাংলানিউজকে বলেন, আগের নিয়োগগুলো পর্যালোচনা করা হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহ্‌ইয়া আখতারের দাবি, সব নিয়োগই যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ এবং নতুন অবকাঠামো চালুর কারণে জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছিল।

আরও খবর 25

Sponsered content