Warning: Undefined variable $query in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Attempt to read property "post" on null in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Attempt to read property "ID" on null in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Undefined property: WP_Error::$cat_ID in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 92
পার্বত্য চট্টগ্রাম

রাঙ্গামাটিতে পর্যটন খাতে অপার সম্ভাবনা, প্রয়োজন সুপরিকল্পিত উন্নয়ন

  প্রতিনিধি ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:১২:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ

মো: মহিউদ্দিন : প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পাহাড় হ্রদ ও বৈচিত্রময় সাংস্কৃতির অনন্য মেলবন্ধনে রাঙ্গামাটি বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন জেলা হিসেবে দ্রæত পরিচিত লাভ করেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, কাপ্তাই হ্রদকে কেন্দ্র করে রাঙ্গামাটি হয়ে উঠতে পারে দেশের “লেক সিটি” যদি সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করা যায়।

রাঙ্গামাটি পাহাড় এলাকার বিস্তৃত নীল জলধারা সবুজ অরণ্য এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠির নিজস্ব জীবনধারা দীর্ঘদিন ধরেই দেশে-বিদেশে পর্যটকদের আকর্ষণ করে আসছে। বিশেষ করে ঝুলন্ত সেতু, রাজবন বিহার, সুবলং ঝর্ণা, বিঝুরি ঝর্ণা, পলওয়েল পার্ক, আরণ্যক সাজেকের প্রবেশমুখ এবং রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন স্পট পর্যটকদের ভিড়ে এখন প্রায় সারা বছরই মুখরিত থাকে।

পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন কাপ্তাই হ্রদের চারিদিকে দ্বীপ ভিক্তিক রিসোর্ট, লেক সাইড পার্ক, ওয়াটার স্পোর্টস, বোট সাফারি, ট্রেকিংরুট ও অ্যাডভেঞ্জার ট্যুরিজমের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে রাঙ্গামাটি পর্যটন বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও খাবারকে কেন্দ্র করে কালচারাল ট্যুরিজম গড়ে তোলা হলে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আরও সম্প্রসারিত হবে।

পর্যটকরা বলছেন রাঙ্গামাটির প্রকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই বারবার আসতে চান। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা ও আধুনিক সুযোগ সুবিধার অভাব পর্যটন শিল্পের বিস্তারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আরো বলেন, নিরাপদ নৌচালনা অত্যাধুনিক আবাসন, ভিউ পয়েন্ট নিরাপত্তার মান উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতার মান বাড়ালে, রাঙ্গামাটিতে আরো অনেক পর্যটক টানতে সক্ষম হবে। এছাড়াও বিশ্বমানের পর্যটন বিকাশের জন্য একটি সুনিশ্চিত পরিকল্পনা, আধুনিক সুযোগ সুবিধা টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় জনগোষ্ঠির সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং কার্যকর বিপনন কৌশল প্রয়োজন এর পাশাপাশি বিশেষ পর্যটন “জোন” গঠনে প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষা এবং সমন্বয়হীন দুর করে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। পর্যটন খাতকে সুদুরপ্রসারী এবং বহুমুখী করতে হলে শুরুতে একটা মাস্টার প্ল্যান করতে হবে এর পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যটন ক্ষমতা মূল্যায়ন স্থানীয় জনগোষ্ঠিদের সরাসরি অংশগ্রহনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কার্যকর বিপনন কৌশল, ব্যাংন্ডিং, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, টেবকসই পর্যটন ও সমন্বয় হীনতা দুর করার মত বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে।

১৯৮৬ সালে রাঙ্গামাটি তবলছড়িতে দুই পাহাড়ের মাঝখানে ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ প্রথম ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন। পর্যটকদের কাছে এই সেতু “সিম্বল অব রাঙ্গামাটি” হিসেবে বেশ পরিচিত, মূলত রাঙ্গামাটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এই ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের পর এই সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক রাঙ্গামাটিতে আসেন। তবে কাপ্তাই হ্রদের বুকে এই সেতুটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণের ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পানির নিচে ডুবে থাকে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনে দাবী দ্বিতীয় ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ হলে পর্যটকদের আগমন আরো বহুগুন বাড়বে এবং সুপরিকল্পিতভাবে দ্বিতীয় ঝুলন্ত সেতু অনতিবিলম্বে নির্মাণ করার জোর দাবী জানিয়েছে।

রাঙ্গামাটি পর্যটন খাতে আরো একটি বড় বাঁধা হচ্ছে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা, আঞ্চলিক সংগঠন গুলোর মাঝে মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে পর্যটকরা ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হয়। যার ফলে পর্যটন খাতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়াও হোটেল মোটেলগুলো আরো অত্যাধুনিক করাসহ হ্রদে নব্যতা পূর্বের ন্যায় ফিরিয়ে আনা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি বাড়বে। কাপ্তাই হ্রদের নব্যতা ফিরিয়ে আনতে শুধু ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন মূল সমাধান নয় এটা করতে গেলে বিপুল পরিমাণ পর্যটক সমাগমে সচেতন করা খুবই জরুরী যেমন- হ্রদে ভাসমান বর্জ্য, প্লাস্টিক, খাবারের প্যাকেট, দুর করতে নিয়মিত পরিষ্কার অভিযান, হোটেল রিসোর্ট ও নৌকার বর্জ্য নিষ্কাশনে কঠোর নিয়ম এবং হ্রদের চারপাশে ডাস্টবিন ও সচেতনতা ক্যাম্পেইন। হ্রদের সৌন্দর্য নষ্ট করে এমন উচু বিল্ডিং, রিসোর্ট অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, হ্রদের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও ভিউ পয়েন্ট সংরক্ষণ পর্যটকদের জন্য আচরণ বিধি বোর্ড ও স্কুল- কলেজ পর্যায়ে পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রম চালু করলে পর্যটন এলাকা ভ্রমনে উক্ত সচেতনতা কাজে আসবে। পর্যটন খাত যতটা না একক খাত তার চেয়ে অনেক বেশি সমন্বিত উদ্যোগ।

এই খাতের জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐক্যমত্য যেমন প্রয়োজন তেমনি রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি উদ্যোগ এবং আন্তবিভাগীয় সমন্বয় অপরিহার্য। স্বল্প মেয়াদী, মধ্যমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী কার্যকর ও ফলপ্রসু পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে এবং প্রত্যেকটা মেয়াদকালে দৃশ্যমান অগ্রগতি থাকলে সুন্দর ও নান্দনিক একটা পর্যটন শহর রাঙ্গামাটি তথা দেশ-বিদেশের ভ্রমণ পিপাসুরা উপভোগ করতে পারবে। প্রথাগত দৃষ্টি ভঙ্গি পাল্টিয়ে আধুনিক উদার ও পরিবশবিদ নীতিগ্রহণে আরো কঠোর হতে হবে। রাঙ্গামাটি পর্যটন খাত বা অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো উপর নির্র্ভর করতে হয় তার মধ্যে জেলা পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসন।

বিগত সরকারের আমলে শুধু আশার বানী শুনিয়েছেন বাস্তবে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যটন খাতে তেমন উন্নতি করতে পারেনি। রাঙ্গামাটি অন্যান্য জেলার চেয়ে ভিন্ন হওয়ায় এখানে পর্যটন খাত অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। যা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিগত দিনে আন্তরিক হতে পারেনি। বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারিভাবে আরো বেশি সুযোগ সুবিধা দিলে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হবে। এখানে আঞ্চলিক সমস্যার কারণে পর্যটন খাতে বিনিয়োগ তেমন মনোযোগ দিচ্ছে না। সরকারিভাবে নিশ্চয়তা পেলে বহুগুন বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে বলে স্থানীয় ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সুতরাং রাঙ্গামাটি পর্যটন খাতকে আরো বেশি আর্কষণীয় ও নান্দনিক করতে হলে স্থানীয় প্রশাসন ও সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহন সরকারি নীতিমালা সঠিক ও সুচারুপে প্রণয়ন করতে পারলে স্থানীয় অর্থনীতি জীবন মানের উন্নতি ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী, রাঙ্গামাটি।

আরও খবর 29

Sponsered content