প্রতিনিধি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১০:৩০:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ

রাউজান প্রতিনিধি : রাউজান উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আদালত পুন:সক্রিয়করণে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব অংছিং মারমা ।
উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: জয়িতা বসু অনুষ্ঠান । গ্রাম আদালত প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মিল্টন চাকমা এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় গ্রাম আদালত আইন, বিধিমালা ও গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে চ্যালেন্জ ও উত্তরণে করনীয় শীর্ষক তথ্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার জনাব সাজেদুল আনোয়ার ভূঁঞা।
আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর মোল্লা ,উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (জনস্বাস্থ্য)মো রহমত উল্লাহ,সমবায় কর্মকর্তা মিন্টু বড়ুয়া , উপজেলা সমন্বয়কারী মো ওসমান গণি,ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ,শিক্ষক ,এনজিও কর্মি,সাংবাদিক অংশগ্রহন করেন ।
“গ্রামে শান্তি, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আসুন সবাই মিলে গ্রাম আদালতকে সক্রিয় করি” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে গ্রাম আদালত পূণ; সক্রিয়করণ বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে উঠে আসে গ্রাম আদালতের প্রয়োজনীয়তা, গ্রাম আদালত আইনের লংঘন করে দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যাক্তি নেতাদের শালিসি বানিজ্যের কথা। বিগত সময়ে গ্রাম আদালত আইনকে উপেক্ষা করে শালিস বানিজ্যের মাধ্যমে জন প্রতিনিধিদের রাতারাতি টাকার পাহাড় গড়ার বিষয়টি ও উঠে আসে। বর্তমানে সেই ইউনিয়ন পরিষদ সমূহে চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতিতে বিচারিক সেবা তথা গ্রাম আদালত কার্যকর করার ক্ষেত্রে সর্বাত্বক সহযোগিতার কথা ব্যাক্ত করেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী গণ নিজ এলাকায় গ্রাম আদালতের সেবা বিষয়ক ব্যাপক প্রচার প্রচারণা বৃদ্ধির জন্য নিজ নিজ ওয়ার্ডে মাইকিং, জুমার নামাজের খুতবায় গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রচার প্রচারণা পরিচালনার পরামর্শ প্রদান করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব অংছিং মারমা বলেন, গ্রাম আদালত ইউনিয়ন পরিষদের নতুন কোন কাজ না । এটি ১৯৭৬ সাল থেকেই ছিল, তবে সক্রিয় ছিলনা। ৫ আগস্টের আগে ও যে এটি পুরোদমে সক্রিয় ছিল এমন টা না। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ সমূহে চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন না থাকায় গ্রাম আদালত সক্রিয় রাখা নতুন করে চ্যালেন্জের মুখোমুখি হয়েছে। আমরা সরবকারের সকল সেবা নিশ্চিত করতে যেমন আপনাদের সাথে নিয়ে কাজ করছি তেমনি গ্রাম আদালতের বিচারিক সেবা নিশ্চিত করতে ও আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। গ্রাম আদালত এমন একটি বিচারিক প্রক্রিয়া যা আইন দ্বারা স্বীকৃত এটি বিগত বা বর্তমান কোন সময়েই বন্ধ করার দাবি বা প্রস্তাব উঠেনি। এতে প্রমানিত হয় স্থানীয় বিরোধ নিস্পত্তিতে গ্রাম আদালত একটি কার্যকর উদ্যোগ । এতে বিরোধের পক্ষদ্বয় অল্প সময়ে, কম খরছে দ্রুত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে পারে। গ্রাম আদালতের যেটুকু সমালোচনা তা হলো আইন কে সঠিকভাবে প্রয়োগ বা কার্যকর না করার। গ্রাম আদালত পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গন্যমান্য ও নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিবগের সহযোগিতায় সীতাকুন্ডের ১৪টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত সক্রিয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।