প্রতিনিধি ১২ মে ২০২৬ , ১:১০:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ

মোঃ রমিজ আলী, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) এলাকায় রোগীদের হয়রানি, প্রতারণা এবং অবৈধ ওষুধ বিক্রি রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে দালাল চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়। একইসঙ্গে অনুমোদনবিহীন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও সংরক্ষণের দায়ে একটি ফার্মেসিকে ৩৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকায় অবস্থিত বিআইটিআইডি হাসপাতাল চত্বরে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন। অভিযানে সহযোগিতা করেন জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রামের ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক এবং ফৌজদারহাট ফাঁড়ি পুলিশ সদস্যরা।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিআইটিআইডি এলাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা এবং দালাল চক্রের সক্রিয়তার অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে দালাল চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়। তবে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্টের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণের আইনগত সুযোগ না থাকায় তার স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য পুলিশ ও বিআইটিআইডি কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে হাসপাতাল সংলগ্ন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও তদারকি করা হয়। এ সময় আর জাহান ফার্মেসী নামক একটি ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে অনুমোদনবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন-২০২৩ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. ইকবালকে ৩৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও তাদের স্বজনদের টার্গেট করে দালাল চক্র বিভিন্ন সময় প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে থাকে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালকেন্দ্রিক দালাল ও প্রতারণা চক্র নির্মূলে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনিয়মে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।