প্রতিনিধি ৬ জুলাই ২০২৬ , ১১:২১:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ

মো. রমিজ আলী, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে শিপ রিসাইক্লিং (শিপ ব্রেকিং) ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে এ মানদণ্ড অর্জনে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, কারিগরি ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
সোমবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে দেশের শিপ রিসাইক্লিং শিল্পকে আরও নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। একসময় বিশ্বে জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে ছিল। সাময়িকভাবে সেই অবস্থান কিছুটা পিছিয়ে গেলেও সরকার আবারও বিশ্ববাজারে নেতৃত্বের অবস্থান পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের ৩১টি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করে আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো এ লাইসেন্স পায়নি, তাদেরও নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে দ্রুত গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরিত হতে হবে।
তিনি বলেন, অতীতে এ শিল্পে পরিবেশ দূষণ, শ্রমিক নিরাপত্তাহীনতা এবং অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিয়ে নানা সমালোচনা ছিল। তবে বর্তমানে গ্রিন ইয়ার্ডগুলোতে বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে জাহাজ পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের শিল্পখাতের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।
শিল্পে চাঁদাবাজি, প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে সরকার তা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সংকট নিরসন সম্ভব না হলেও শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প খাতের বিভিন্ন নীতিগত সমস্যা সমাধানেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনকালে শিপ রিসাইক্লিং শিল্প মালিক সমিতির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।