জাতীয়

৩০ বছরের মধ্যে সর্বাধিক প্রার্থী নিয়ে ভোট আয়োজনে ইসি

  প্রতিনিধি ২২ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:৫৯:১০ প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টবাণী ডেস্ক: ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট ১৯৭২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা ১৯৯৬ সালের পর সর্বোচ্চ। এছাড়া আইনি জটিলতা থাকায় পাবনা-১ ও ২ আসনের প্রার্থিতা চূড়ান্তে বিলম্ব হওয়ায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রকাশিত চূড়ান্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসির প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর মোট প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িয়েছে ১৯৭২ জনে। এবার ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।
ইসি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ১৮৯৬ জন, ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ১৮৪১ জন এবং ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন মাত্র ৩৯০ জন। ওই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৫৩ জন সংসদ সদস্য।

এবারে কোনো আসনেই একক প্রার্থী নেই। এছাড়া আইনি কাঠামোর কারণে এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগও ছিল না।
২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ১৫৬৭ জন, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৩৯ জন এবং ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৫৭৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে হিসেবে গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী নিয়ে এবার আয়োজন করা হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

আওয়ামী লীগের ওপর কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার কারণে দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। পাশাপাশি কয়েকটি দল স্বেচ্ছায় নির্বাচন বর্জন করলেও বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর অংশগ্রহণে নির্বাচনটি গত তিন দশকের মধ্যে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে।

ইসির তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রার্থী সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা-১২ সংসদীয় আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন দুইজন প্রার্থী—বিএনপির আলমগীর হোসেন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাসুদ সাঈদী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

অন্তত ৩১টি সংসদীয় আসনে ১০ জন বা তার বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১৩ জন এবং খুলনা-১, ঢাকা-৯, ঢাকা-১৪ ও গাজীপুর-২ আসনে ১২ জন করে প্রার্থী রয়েছেন।
এছাড়া ১৪টি আসনে তিনজন করে প্রার্থী রয়েছেন। এসব আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ঠাকুরগাঁও-১, জয়পুরহাট-২, নওগাঁ-২, মেহেরপুর-২, চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২, খুলনা-২, টাঙ্গাইল-৭, নেত্রকোনা-৫, মানিকগঞ্জ-২, ঢাকা-২, সুনামগঞ্জ-১ ও ২, চট্টগ্রাম-১৫ এবং কক্সবাজার-১।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে মোট ২,৫৮০ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১,৮৫৫টি মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ৭২৫টি বাতিল হয়। পরে আপিল ও আদালতের আদেশে ৪৩৬ জন প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পান।

গত ১১ ডিসেম্বর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ বিষয়ে গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠানের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। সাম্প্রতিক সময়ের সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি। ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫১টি দল এবারে প্রার্থী দিয়েছে। দলগুলো ২ হাজার ৯১টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে জমা পড়েছে ৪৭৮টি মনোনয়নপত্র।

যে দলগুলো প্রার্থী দেয়নি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)।

প্রার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ার পেছনে ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, আপিলে প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন নমনীয়তা দেখিয়েছে। এবারে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে কমিশন ছাড় দিয়েছে। যারা নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন করেছেন, তাদের প্রার্থিতা বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ঋণখেলাপিদের অনেকেই ছাড় পেয়েছেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে ইসি। এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের শর্তে অনেক ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানো হয়েছে। খাগড়াছড়ির এক প্রার্থী প্রয়োজনীয় ৪ হাজার ৭ ভোটারের সমর্থনের পরিবর্তে মাত্র পৌনে ৭০০ ভোটারের সমর্থন দেখালেও প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, আপনারা (সাংবাদিক) হয়তো আমাদের সমালোচনা করবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বিষয়টি আমরা কীভাবে ছাড় দিয়েছি, তা আপনারা দেখেছেন। কারণ, আমরা চাই নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হোক। আমরা চাই সবাই অংশ নিক এবং একটি সুন্দর নির্বাচন হোক। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া কিন্তু তা সম্ভব নয়।

আরও খবর 17

Sponsered content