Warning: Undefined variable $query in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Attempt to read property "post" on null in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Attempt to read property "ID" on null in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Undefined property: WP_Error::$cat_ID in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 92
সাহিত্য

কোমলমতি শিশুরা ক্ষীণদৃষ্টিতে ভুগছে: মো: মহিউদ্দিন

  প্রতিনিধি ১৯ নভেম্বর ২০২৫ , ১০:৫৫:২০ প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টবাণী: ক্ষীণদৃষ্টি হলো একধরণের রিফ্র্যাকাটিভ ত্রুটি যেখানে কাছের জিনিস দেখতে অসুবিধা না হলেও দূরের জিনিস দেখতে আবছা আবছা লাগে। এই সমস্যাটা মূলত স্কুল জীবনে শুরু হয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত বাড়তে থাকে। এই ক্ষীণদৃষ্টিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় “মায়োপিয়া” বলা হয়। মাঝারি বা উচ্চ স্তরের মায়োপিয়া থাকলে পরবর্তী সময়ে গøুকোমা বা ছানি পড়া ও রেটিনা সরে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। চোখের ভেতরে পেছনের অংশে রেটিনার কেন্দ্রে একটি ছোট জায়গা থাকে সেটাই ম্যাকুলা, এই ম্যাকুলা আমাদের পরিষ্কার ও সূ²ভাবে দেখতে সাহায্য করে যেমন পড়া-লেখা, মুখ চিনতে পারা বা কোন জিনিসের খুঁটিনাটি দেখা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন মায়োপিয়া একেবারে নির্মূল করা যায়না কিন্তু সঠিক এবং যথাসময়ে চিকিৎসা করলে এই রোগের লাগাম কিছুটা শ্লথ করা যায়। সম্প্রতি দক্ষিণ ভারতে ১৪ হাজার শিশুর উপর গবেষণা করে দেখা যায়। শহরে বসবাসকারী শিশুদের মধ্যে মায়োপিয়া হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, কিন্তু গ্রামে বসবাসকারী শিশুদের এই রোগ তুলনামূলক খুবই কম, চিকিৎসকদের বিশ^াস সময়মতো ক্ষীণদৃষ্টি বা মায়োপিয়ার লক্ষণ বুঝতে পারলে দ্রæত ব্যবস্থা নিলে এই রোগের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব। আপনার শিশুর কিছু লক্ষণ দেখেই আপনি বুঝতে পারবেন যেমন- ঝাপসা দেখা, দূরের জিনিস সাইনবোর্ড বা বø্যাকবোর্ড স্পষ্ট দেখা না যাওয়া। চোখ কোঁচকানো বা চাপ দেওয়া মাথা ব্যাধা, ঘন ঘন চোখ ঘষা এবং স্ক্রিন বা বই খুব কাছে নিয়ে আসা।

এছাড়াও শিশুরা দীর্ঘক্ষণ স্মার্টফোন ব্যবহার করার ফলে তাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি দিনদিন কমে যাচ্ছে। সম্প্রতি রাঙামাটিতে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেসরকারি কিন্ডার গার্টেন ঘুরে দেখলাম। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, বড় পরিসরে খোলামেলা দালান, যারফলে সেইসব শিক্ষার্থীদের মায়োপিয়া বা ক্ষীণদৃষ্টি সম্পন্ন শিক্ষার্থীর সংখ্যা নাই বল্লেই চলে, অন্যদিকে বেশ কয়েকটা কিন্ডার গার্টেনে দেখলাম গাদাগাদি করে ছাত্র/ছাত্রীরা ক্লাসরুমে পাঠদান শুনছে, নেই পর্যাপ্ত খেলাধুলার মাঠ ঘন্টার পর ঘন্টা একরুমে বসে শ্রেণি পাঠ নিচ্ছে, সেই সব শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ চশমা পড়ে ক্লাস করতে দেখা যায়। শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তাই স্থানীয় প্রশাসন যে সমস্ত কিন্ডার গার্টেনে পর্যাপ্ত খেলাধুলা করার মাঠ নেই, ক্লাসরুমে আলো বাতাসের স্বল্পতা সেইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

রাষ্ট্রীভাবে প্রাইমারি লেভেলের স্বাস্থ্যবান্ধব অবকাঠামো ও শ্রেণিকক্ষ না থাকলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ধাবিত হবে। শিশুর চোখ নিয়ে ভাবতে হবে, তার দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখতে সচেষ্ট হতে হবে। চশমার ফ্রেমের যে খরচ তার চেয়ে অনেক কম খরচে আপনার শিশুকে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব , তাই প্রতিদিন স্কুল কিংবা বাসায় নির্দিষ্ট কিছু সময় বাহিরে ঘুরাফেরা বা খেলাধুলা করার সময় দিন, স্বল্প আলোতে পড়ালেখা থেকে বিরত থাকতে হবে। সরকারিভাবে স্কুলে চোখ পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকলে অভিভাবকরা নিজ দায়িত্বে শিশুদের চোখ পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে এই রোগ থেকে পরিত্রাণ পাবে।

আপনার কোমলমতি শিশুকে নিরাপদ ও সুস্থভাবে গড়ে তুলতে হলে তাদের প্রতি আরো বেশি সচেতন হতে হবে। স্কুল নির্বাচন বা ভর্তি করার পূর্বে সেই স্কুলের পরিবেশ ভালোভাবে দেখা এবং ক্লাসরুম হতে শুরু করে বাচ্চার খেলাধুলার পরিবেশ কতটুকু স্বাস্থ্য সম্মত সেদিকটা নির্বাচন করা একজন বাচ্চার সুন্দর ভবিষ্যত গড়ার ক্ষেত্রে বড় ভ‚মিকা রাখবে। শিশুদের সুরক্ষায় সচেতন হই। নিয়মিত চোখের যত্ন, স্ক্রিনের সময় কমানো এবং প্রকৃতি আলোতে বেশি সময় কাটানোর অভ্যাস শিশুর দৃষ্টিশক্তি সুস্থ রাখতে সহায়ক ভ‚মিকা রাখবে।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী,রাঙ্গামাটি সদর, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।

আরও খবর 23

Sponsered content