জাতীয়

সৌদির ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায়

  প্রতিনিধি ৬ মে ২০২৬ , ১:২০:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টবাণী : হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ ৩৯৫ টন অপরিশোধিত (ক্রুড) তেল নিয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার লম্বা ‘এমটি নিনেমিয়া’। ঘণ্টায় ১০-১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে আসা জাহাজটি মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে বন্দর থেকে ১৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল।

বুধবার (৬ মে) সকালে জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে কুতুবদিয়ায় পৌঁছাবে। তারপর কাস্টমস ও সার্ভেয়ার কোম্পানির আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে লাইটারিং বা ছোট ছোট ট্যাংকার জাহাজে নগরের পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নিয়ে আসার কাজ।

এরপর শুরু হবে পরিশোধন প্রক্রিয়া। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম দেশে আসা ক্রুড অয়েলের চালান। এ ক্রুড অয়েলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট।

এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন বিপিসির আমদানি করা ক্রুড অয়েল পরিবহনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকাল ৬টায় যাত্রা শুরু করে। তার আগে রাতভর এতে তেল লোড করা হয়। নিরাপদে রেড জোন পেরিয়ে নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছেছে জাহাজটি। আশার কথা হচ্ছে, ফুজাইরা থেকে আরও এক লাখ টন ক্রুড নেওয়ার জন্য এমটি ফসিল নামের জাহাজ পাঠানো হয়েছে। সেটি ৯ মে বন্দরে ভিড়বে। ১০ মে লোড করে পুনরায় বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে।

‘নর্ডিকস পলাক্স’ জাহাজে বিপিসির ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে, সেটি হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকার কারণে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ক্রুড অয়েল লাইটারিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত অয়েল ট্যাংকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একসাথে দুইটি ট্যাংকারে লাইটারিং করা হবে। এ কাজের জন্য ১০ দিন নির্ধারিত থাকলেও আশাকরি তার আগেই হয়ে যাবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের চাহিদা মেটাতে ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায়। জ্বালানি চাহিদার তালিকায় ডিজেল শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন এবং প্লেন চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিপিসি ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি বিক্রি করেছে।

আরও খবর 17

Sponsered content