প্রতিনিধি ২৯ মে ২০২৬ , ১২:০৬:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

মোঃ কামরুল ইসলাম:রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নিতে রাঙামাটিতে অসহায় মানুষ ও সুবিধাবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মাঝে কোরবানির গোশত বিতরণ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি শহরের কাঁঠালতলী মসজিদ প্রাঙ্গণে জেলা কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইউনিটের সুবিধাবঞ্চিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় দুস্থ মানুষের মাঝে মাথাপিছু দেড় কেজি করে কোরবানির গোশত বিতরণ করা হয়। পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম তাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেন। এছাড়াও দপ্তর সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবুসহ স্থানীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. হাবীব আজম বলেন, “ঈদুল আজহা মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এই ঈদে সামর্থ্যবানরা কোরবানি দিলেও সমাজে এমন অনেকেই আছেন যারা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোরবানি দিতে পারেন না। ফলে ঈদের খুশির দিনেও সন্তানদের মুখে একটু গোশত তুলে দিতে না পারায় তাদের আনন্দ মলিন হয়ে যায়। মূলত সেইসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও আমাদের কর্মীদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।” এবার অর্ধশতাধিক পরিবারের মাঝে এই উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
গোশত বিতরণকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বৈচিত্র্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সমগ্র বাংলাদেশে সকল ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সৌহার্দ্য ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের প্রধান শক্তি।এদিকে ঈদের এই উপহার পেয়ে উচ্ছ্বাস ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পিসিসিপির সুবিধাবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
তারা জানান, এর আগে কখনো কেউ এভাবে তাদের খোঁজখবর নেয়নি বা ঈদের উপহার দেয়নি। রাঙামাটি জেলা পিসিসিপি বিগত চার বছর ধরে প্রতিনিয়ত তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সবসময় তাদের সুখ-দুঃখে খোঁজখবর রাখছেন।