প্রতিনিধি ২৭ জুলাই ২০২৫ , ১০:৩১:১১ প্রিন্ট সংস্করণ

নুরুল আবছার নূরী : ফটিকছড়ি উপজেলা পাইন্দং ইউনিয়নে পশ্চিম হাইদচকিয়া গ্রামের ভন্ড পীর শুক্কুরের ফকিরের প্রচন্ড নারী কেলেঙ্কারি, প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। নানা অপকর্মে জড়িত থাকার পর ও প্রশাসন নিরব থাকার প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী এক নারী জানান, দীর্ঘদিন শারীরিক সমস্যায় ভুগেছিলেন তিনি। চিকিৎসার আশায় শুক্কুর ফকিরের নিকট চিকিৎসা নিতে আসেন। শুক্কুর ফকিরের শরণাপন্ন হলে ভন্ড শুক্কুর ফকির তার মাকে ফিরিয়ে দিয়ে এককক্ষে বন্ধি করে টানা ৩ দিন ধর্ষণ করে তাকে। ঘটনার পর কাউকে কিছু বলে তাকে হত্যার হুমকি দেন।
পরবর্তী ভুক্তভোগী পরিবার ফটিকছড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২এ মামলা করলে আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন পিবিআইকে। তদন্ত চলাকালে ভিকটিম পরিবারকে দালালের মাধ্যমে আপোষের বাধ্য করা হয়। স্হায়ীভাবে ১৩ লাখ মাধ্যমে আপোষের ঘোষণা থাকলেও পরিবারটি পায় ৬ লাখ টাকা।
এটা প্রথম নয়।এর আগে ও পাইন্দং ইউনিয়নে বেড়াজালী গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য এলাকা বাসী গণধোলাই দিয়ে ভন্ড শুক্কুর ফকিরকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। দীর্ঘদিন জেল খেটে বেরিয়ে এসে আবার ও পুরনো কায়দায় প্রতারণা শুরু করে সে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রিকশা চালক নুরুল আলমের ছেলে শুক্কুর কাঠমিস্ত্রীর কাজ করলে ও একটি দরবারে আসা যাওয়া করত এরই সুবাদে পীর দাবি করতে শুরু করে সে।
বর্তমানে শুক্কুরের বাড়ি তিনতলা বিশিষ্ট প্রসাদের রুপ নিয়েছে।বাড়ির চারদিকে সিসিটিভি ক্যামেরা। বাড়ির ভিতরে ভক্তদের জন্য রয়েছে একটি বিশেষ হল রুম ও খালি গায়ে ঝারফুঁকরার আস্তানা। প্রতি রবিবার রাতে বসে ঝাড়ফুঁক, তাবিজ কবচ,পানি পড়া,তেল পড়া,চিনি পড়া দেওয়ার আসর।এসবের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সরলপ্রাণ মানুষদের কাছ থেকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামিলীগ সরকারের আমলে দলিয় কয়েকজন নেতার ছত্রছায় ছিল সে।সম্প্রতি বি.এন.পি- জামাত ঘরনার কয়েকজন নেতার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে আবার ও সক্রিয় হয়ে উঠেছে সে। মাসোয়ারার বিনিময়ে থানা-পুলিশ ও প্রশাসনের কিছু কিছু কর্মকর্তা ও তার অপকর্মে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ভন্ড পীর শুক্কুর ফকির তার ব্যক্তিগত সহকারী নাসিরের সাথে কথা বলতে বলেন।
এই বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয়দানকারী মোজাহেরুল ইসলাম নাসির বলেন, শুক্কুর ফকির দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে ঝাড়ফুঁক করে আসছেন। ধর্ষণ মামলার ও আপোষের বিষয়টির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন ঘটনাটি অনেক আগের কত টাকা লেনদেন হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে পরে স্বীকার করেছিল আপোষনামায় তার স্বাক্ষর ছিল।
পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে.এম সরোয়ার হোসেন স্বপ্ন বলেন, তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে ,তাকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করছি।
এলাকাবাসীরা বলেন, ধর্মের নামে প্রতারণা নারীদের ফাঁদে ফেলা, মানুষের সরলতা ও কষ্টকে পুঁজি করে এভাবে কেউ দিনের পর দিন অপরাধ করে থাকে তা কোনো ভাবে মনে নেয়া যায় না। আমরা তার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর আহমদ বলেন, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তবে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আসে। তা কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নয়।