Warning: Undefined variable $query in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Attempt to read property "post" on null in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Attempt to read property "ID" on null in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Undefined property: WP_Error::$cat_ID in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 92
মহানগর

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড: শহীদ ওয়াসিমের বাবা ও শহীদ শান্ত’র মায়ের সন্তোষ প্রকাশ

  প্রতিনিধি ১৭ নভেম্বর ২০২৫ , ৫:৪৭:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টবাণী: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় চট্টগ্রামে শহীদ পরিবারের স্বজন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন চেয়েছেন তারা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে শহীদ হওয়া ওয়াসিমের বাবা শফি আলম বাংলানিউজকে বলেন, আজকে সকাল থেকে এ রায়ের অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে কাঙ্খিত রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। দেশবাসীর মতো আমিও আনন্দিত ও খুশি হয়েছি। শুধু হাসিনা নয়, সকল চিহ্নিত হত্যাকারী, হামলাকারী ও নির্দেশদাতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর মা কহিনূর আক্তার বলেন, “আমার সন্তানকে তো আর ফিরে পাবো না। তবে হাসিনার ফাঁসির রায় শুনে একটু শান্তি লাগছে। তবে তিনি রায়ের দ্রুত বাস্তবায়নের উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন।

কহিনূর আক্তার বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই রায় কার্যকর হচ্ছে না, ততক্ষণ পুরোপুরি শান্তি লাগবে না। বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, হাসিনাকে দেশে এনে ফাঁসি কার্যকরে যেন তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।

তিনি আরও বলেন, শান্ত একটি সুন্দর, শোষণমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতো। আমার সন্তান যে লক্ষ্য পূরণে শহীদ হয়েছে, সেই লক্ষ্য যেন পূরণ হয়।

শহীদ শান্তর বাবা জাকির হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, সন্তানকে কোনো কিছুর বিনিময়ে ফিরে পাওয়া যাবে না। তবে রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয় সেটিই রাষ্ট্রের কাছে চাওয়া। মনকে কিছুটা শান্তা দিতে পারছি যে সন্তানকে অন্যায়ভাবে হত্যার বিচারের রায় হয়েছে। ড: ইউনুসের সক্ষমতা আছে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার। তিনি চাইলে অবশ্যই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা সম্ভব। আমরা এ বিষয়ে ড: ইউনুসের উপর ভরসা রাখতে চাই।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের গুলিতে চোখ হারানো জুলাই যোদ্ধা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শুভ হোসেন এই রায়ের পাশাপাশি সকল মামলার সঠিক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

আহত জুলাই যোদ্ধা শুভ হোসেন বলেন, আর যেন এদেশের কোনো যুবককে রাস্তায় নেমে জীবন দিতে না হয়, সেজন্য ঘোষিত সাজার পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং একই অভ্যুত্থানে আহত-নিহতদের দায়ের করা সকল মামলার সঠিক বিচার চাই।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনি, যুবলীগ নেতা বাবরসহ যারা আমাদের উপর গুলি করেছিল, তাদের দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। হাছান মাহমুদ, মহিবুল হাসান চৌধুরী, সাইফুজ্জামান চৌধুরী, আ জ ম নাছির উদ্দিন, রেজাউল করিমসহ সকল হোতাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

শুভ হোসেন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বিচার বাস্তবায়ন হলেই শহীদ ওয়াসিমদের আত্মা শান্তি পাবে। একই সঙ্গে তিনি জুলাইয়ের মামলায় যেন অহেতুক কাউকে হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন, পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলি ও হামলায় মোট ১৪ জন নিহত এবং ৯০০ এর বেশি ছাত্র-জনতা আহত হন। এদের মধ্যে অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

এসব ঘটনায় মোট ১৫১টি মামলা দায়ের করা হলেও প্রায় দেড় বছর পরেও মাত্র একটি মামলার তদন্ত কাজ শেষ হয়েছে।

মামলার তদন্তের গতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে শহীদ শান্তর মা কহিনুর আক্তার বলেন, এই দেশে তো বিচার নিয়ে সব সময় শঙ্কায় থাকতে হয়। শান্ত হত্যায় দায়ের করা মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি দেখছিনা। আমরা চাই সব মামলার কাজ দ্রুত শেষ করে বিচার সম্পন্ন হোক।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই মুরাদপুরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শহীদ ওয়াসিম, শান্ত, ফারুক। সবমিলিয়ে ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে চট্টগ্রামে শহীদ হন ১৬ জন।

আরও খবর 25

Sponsered content