Warning: Undefined variable $query in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Attempt to read property "post" on null in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Attempt to read property "ID" on null in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Undefined property: WP_Error::$cat_ID in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 92
খেলাধুলা

রোমাঞ্চকর জয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

  প্রতিনিধি ৪ জুন ২০২৬ , ১২:০১:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টবাণী ডেস্ক: ঘড়ির কাঁটা তখন ইনজুরি টাইমের ৯৩তম মিনিটে ঘুরছে। ভারতের বিখ্যাত পর্যটন নগরী গোয়ার মারগাঁওয়ে অবস্থিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে তখন টানটান উত্তেজনা।

স্টেডিয়ামে উপস্থিত সবাই যখন ধরে নিয়েছে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছে, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির বদলি ফরোয়ার্ড সাগরিকা। তার পা থেকে আসা এক জাদুকরী মুহূর্তেই নেপালের হৃদয় ভেঙে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিল বাংলাদেশ।

সেমিফাইনালের মহারণে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে টানা তৃতীয় শিরোপার আরও কাছে পৌঁছে গেল পিটার বাটলারের শিষ্যরা।

বাঘিনীদের শুরুটা অবশ্য ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের মতো ছিল না।

অগোছালো মিডফিল্ড আর রক্ষণের ভুলে প্রথম থেকেই চাপে ছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ডাগআউটে কোচ পিটার বাটলারের চোখেমুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট করে ম্যাচের ২৩ মিনিটেই লিড নেয় নেপাল।

বাংলাদেশের ডি-বক্সের ভেতর তৈরি হওয়া এক জটলার সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগায় তারা। দীপা শাহির কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে আলতো ছোঁয়ায় জাল খুঁজে নেন গিতা রানা (১-০)।

পিছিয়ে পড়ার পর মারিয়া মান্দাদের নেতৃত্বে উইং দিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালালেও নেপালের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না বাংলাদেশ। উল্টো ৩৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। প্রীতি রাজের দূরপাল্লার জোরালো শট গোলরক্ষক মিলি আক্তারের হাত ছুঁয়ে পোস্টে লাগলে নিশ্চিত খাদের কিনারা থেকে বেঁচে ফেরে বাংলাদেশ।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে। স্রোতের বিপরীতে জ্বলে ওঠেন ‘বাংলার মেসি’ খ্যাত ঋতুপর্ণা চাকমা। কর্নার কিক থেকে তার নেওয়া দুর্দান্ত বাঁকানো শট সরাসরি জালে জড়ালে এক দর্শনীয় ‘অলিম্পিক গোলে’ ১-১ সমতায় থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

সমতায় ফেরার আত্মবিশ্বাস নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামা বাংলাদেশ শুরুতেই বড় বাঁচা বেঁচে যায়। ৪৭ মিনিটে নেপালের রেখা পাউডেল ফাঁকা পোস্ট পেয়েও বল সাইডবারে মারেন। এরপরই কৌশলগত পরিবর্তন আনেন কোচ বাটলার। আক্রমণের ধার বাড়াতে মৌমিতার বদলে মনিকা এবং আনিকাকে তুলে সাগরিকাকে মাঠে নামান তিনি।

৭৮ মিনিটে মনিকার চমৎকার এক পাস থেকে সাগরিকার শট নেপালি গোলরক্ষক কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন। এর কিছুক্ষণ পরই দুর্ভাগ্যজনক ইনজুরির কারণে বদলি নামা মনিকাকে তুলে শাহেদা আক্তার রিপাকে মাঠে নামাতে বাধ্য হন কোচ।

তবে শেষ হাসিটা হেসেছে বাংলাদেশই। অলআউট ফুটবল খেলতে থাকা নেপালের রক্ষণে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সাগরিকা। ৯৩ মিনিটে তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিশ্চিত হয় রোমাঞ্চকর এক জয়। শুরুতে পথ হারানো দলটিই শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়ে বীরের বেশে।

লাল-সবুজের জার্সিতে গায়ে খেলতে নামা তরুণীদের জন্য এই জয়টি ছিল পরম চাওয়া। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হেরে দলটির আত্মবিশ্বাস ছিল তলানিতে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল মাঠের বাইরের বিভিন্ন ইস্যু। অধিনায়কের (আফঈদা খন্দকার, ভারতের বিপক্ষে) একাদশ থেকে বাদ পড়া থেকে শুরু; ভারতের কাছে পাত্তা না পাওয়া, এরপর ড্রেসিংরুমে কোচ ও খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্ব, ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের মায়ের মৃত্যুতে দলের অনুশীলন বাতিল।

সবমিলিয়ে অষ্টম নারী সাফের প্রথম সেমিফাইনালে বেশ অগোছালো অবস্থাতেই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ দল। এর প্রভাব পড়েছে আজকের ম্যাচের প্রথম মিনিট বিশেকের ওপর। তবে ঋতুপর্ণার গোলটি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। নিজের প্রতিভার পূর্ণ স্বাক্ষর রেখে দলের প্রথম গোলটি করেন। এক অর্থে ওই গোলেই বাংলাদেশ দলকে উদ্ধার করেন তিনি।

আজকের ম্যাচ দিয়ে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে আফঈদার। তার ফেরা সার্থক হয়েছে। সতীর্থদের সঙ্গে জয়ের উৎসব করেই মাঠ ছাড়তে পেরেছেন তিনি। উজ্জীবিত বাংলাদেশ দল নেপালকে শেষদিকে রীতিমতো চেপে ধরেছিল। খেলেছে অলআউট ফুটবল। যার ফল সাগরিকার গোলটি। ঘুরে দাঁড়িয়ে পাওয়া এই জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে, ফিরেছে আত্মবিশ্বাসও। হ্যাটট্রিক শিরোপাটাও এখন এক হাত দূরেই, জাস্ট ধারাটা ধরে রাখতে হবে।

আরও খবর 16

Sponsered content