প্রতিনিধি ১৫ নভেম্বর ২০২৫ , ১০:২৫:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

মো. রমিজ আলী, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড দক্ষিণ মছজিদ্দা এলাকায় একটি মাদক প্রতিরোধ ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম জোরদারে সবাই একত্রিত ও সভা অনুষ্ঠিত হয়।
১৪ নভেম্বর বিকাল ৫টায় ছোট কুমিরা দক্ষিণ মছজিদ্দা গ্রামের সচেতন মহলের উদ্যোগে মাদকবিরোধী এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “উদ্দীপ্ত কাফেলা”–এর প্রচার ও পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে যুবসমাজের মধ্যে মাদকের বিস্তার এবং এর ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় এ সভাটি এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে সচেতনতার আহ্বান:
সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, মাদক আজ শুধু ব্যক্তি বা পরিবার নয়, পুরো সমাজকে গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকের কারণে সামাজিক অপরাধ বাড়ছে, পরিবারের ভাঙন ঘটছে, আর তরুণরা ধীরে ধীরে ভবিষ্যৎহীন হয়ে পড়ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে পরিবার, সমাজ, সুশীল সমাজ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক নির্মূল কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। এটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হলে সকল নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে, সন্তানের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে এবং তরুণদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সামাজিক ও মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে।
বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতি:
সভায় গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে সভাটি আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।তরুণদের নিয়ে কাজ করা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও মাদকবিরোধী উদ্যোগে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
‘উদ্দীপ্ত কাফেলা’-র কার্যক্রম উপস্থাপন:
সভায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “উদ্দীপ্ত কাফেলা”–এর মানবিক কাজ, সামাজিক উদ্যোগ, শিক্ষা-সহায়তা, মাদকবিরোধী প্রচারণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। বক্তারা বলেন, সংগঠনটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক ধারায় যুবসমাজকে যুক্ত করতে চায় এবং সমাজে সুসংহত পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।
সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের আলোচনার ভিত্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়—
১. গ্রামের প্রতিটি পরিবারকে মাদকের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করা এবং নিয়মিত পারিবারিক নজরদারি বাড়ানো।
২. মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ও প্রয়োজনে আইনগত সহায়তা প্রদান।
৩. তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, ধর্মীয়-নৈতিক শিক্ষা এবং সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করা।
৪. এলাকার শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
৫. মাদকবিরোধী সামাজিক ঐক্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
গ্রামবাসীর শপথ—“মাদকমুক্ত গ্রাম গড়ব আমরা”
সভা শেষে উপস্থিত সবাই মাদকবিরোধী যেকোনো উদ্যোগে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
গ্রামকে মাদকমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করে গড়ে তুলতে একসাথে কাজ করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন সকল স্তরের মানুষ।
সভাটি এলাকার মানুষের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং তরুণদের থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের সচেতনতা সভা নিয়মিত হলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হবে।