প্রতিনিধি ২৫ অক্টোবর ২০২৫ , ৯:৪১:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ

নুরুল আবছার নূরী : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ঘুষের অপরাধে দন্ডিত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিমুল কদর আবার ও ফটিকছড়িতে বহাল হয়েছেন। এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ২৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল তিনি ফটিকছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করেন।
দূর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি আবার নিজ কর্মস্থলে ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। ২০১৯ সালে ফটিকছড়ি পাইন্দং ইউনিয়নের বেড়াজালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী শিক্ষক তসলিমা আকতারের বদলীর জন্য ঘুষ নেওয়ার সময় দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল শিক্ষা কর্মকর্তা আজিমুল কদর।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ১৫ জুন চট্টগ্রামের একটি আদালত তাকে দুটি ধারায় আড়াই বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দন্ডপ্রাপ্ত আজিমুল কদর উচ্চ আদালতে আপিল করেন,যা গৃহীত হয়।পরবর্তী দুদক আর আপিল না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি বিধি মোতাবেক তার শেষ কর্মস্থল ফটিকছড়িতে যোগদান করেছেন বলে জানা গেছে। আজিমুল কদর আর ফটিকছড়িতে যোগদান করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে ফটিকছড়ি প্রাথমিক শিক্ষক সামাজে অসন্তোষ বিরাজ করছে। শিক্ষক নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অবিলম্বে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দিয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের নেত্রী রহিমা বেগম ফেইসবুকে লিখেছেন, ঘুষের টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরে খেয়ে অপমানিত হলেন, প্রায় সাত বছর পর আবার চেয়ার বসে অপমানিত হবেন। উনি অন্যত্র বদলি হওয়াটায় হবে উত্তম।
মোঃ শাহজাহান নামে আর এক শিক্ষক লিখেছেন, শিক্ষকের অভিযোগে দুদকের হাতে গ্রেপ্তার ও হলেন, জেল খাটলেন। কিন্তু কিভাবে তিনি আরও এই কর্মস্থলে যোগ দিলেন? এটি শিক্ষক সমাজ মানতে পারছেন না।তাকে প্রত্যাহার না করলে কঠোর কর্মসূচি দেবো।
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে আজিমুল কদর বলেন, আলোচনা সমালোচনা থাকতে পারে। আমি আদালতের রায়কে সম্মান দেখিয়ে যোগদান করেছি। শিক্ষক সমাজকে আইন আদালত মানতে ও বুঝতে হবে। পরে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যা হবার তাই হবে।