Warning: Undefined variable $query in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Attempt to read property "post" on null in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Attempt to read property "ID" on null in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Undefined property: WP_Error::$cat_ID in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 92
মহানগর

২৪৯ মিমি বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চলে হাঁটুপানি

  প্রতিনিধি ৬ জুলাই ২০২৬ , ১১:৩৪:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টবাণী: অতিভারী বৃষ্টিতে নগরের নিম্নাঞ্চলে হাঁটুপানি জমে গেছে। এমনিতে টানা বৃষ্টিতে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, খেটে খাওয়া মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন।

তার ওপর সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরের নিম্নাঞ্চলে পানি উঠে যায়। কোনো কোনো সড়ক ও অলিগলিতে হাঁটুপানি দেখা যায়।

পাহাড়ি ঢল, কর্ণফুলীর জোয়ার ও অতিভারী বৃষ্টি একসঙ্গে হলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা ভুক্তভোগীদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জসহ নিচু এলাকায় সন্ধ্যার পর পর পানি বাড়তে শুরু করেছে।

দিনভর অতিভারী বৃষ্টির চাপ নালা, খাল নিতে পারলেও সন্ধ্যায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দেয়। তবে চসিক ও সিডিএর লোকজন পানি নেমে যাওয়ার পথে বাধা অপসারণে কাজ করছেন।

বৃষ্টিতে পানি জমে যায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথ ও পার্কিং জোন এলাকায়।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বশির আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, রাত ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৪৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে পতেঙ্গায়। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রেকর্ড হয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার।

এদিকে আমবাগান আবহাওয়া কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মোহাম্মদ ইউসুফ জানিয়েছেন, সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।

কাতালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, জলাবদ্ধতা নিয়ে একধরনের লুকোচুরি চলছে যুগের পর যুগ। জলাবদ্ধতার মাপকাঠি যেন সড়কই। বৃষ্টির সময় যাতে সড়ক না ডুবে যায় সে জন্য সেগুলো অনেক উঁচু করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সড়কের পাশের দোকান, গলি, আবাসিক ভবনের নিচতলা যে কোমরপানিতে ডুবে থাকছে সেটি দেখা যাচ্ছে না। এ ধরনের ভুক্তভোগীদের দীর্ঘশ্বাস, কষ্ট, দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন রোববার রাত থেকেই জলাবদ্ধতা ঠেকাতে মাঠে ছিলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনের বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে মনিটরিং করছেন। তিনি চট্টগ্রামের সবগুলো সেবা সংস্থাকে নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করার জন্য একটি শক্তিশালী কমিটি করে দিয়েছেন। জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কারণেই টানা দুই দিনের বৃষ্টির পরও নগরীতে কোনো উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।

সোমবার সকালে মেয়র নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের বাস্তব চিত্র, খাল-নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি চলমান কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। মেয়র চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা তদারকির নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নালা-নর্দমা, খাল কিংবা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

পরিদর্শনের সময় মেয়র বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের কাছ থেকে পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত নেন। তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নগরবাসীর যেকোনো অভিযোগ বা তথ্য দ্রুত যাচাই করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

আরও খবর 25

Sponsered content