চট্টবাণী ডেস্ক: একটি স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যারা স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেছিল, তারাই এখন ঢাকার বাইরে গিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সঙ্গে গোপনে মিটিং করছে। এদের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোর ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব ঘোষণা দেন।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
একইসঙ্গে নারী সমাজের জন্য ‘ফ্যামিলি ও এলপিজি কার্ড’, মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে অধ্যয়ন, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ ও কৃষিঋণ মওকুফসহ ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আটকে থাকা এসব জনকল্যাণমূলক কাজের পুনরায় সূচনা হলো।
তিনি বলেন, “সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’র পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কয়েক কোটি মায়ের হাতে এই কার্ড পৌঁছাবে।
পাশাপাশি রান্নার কষ্ট লাঘবে মা-বোনদের দেওয়া হবে ‘এলপিজি কার্ড’।”
শিক্ষাক্ষেত্রে মেয়েদের স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যন্ত বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ এবং ভালো ফলাফলের জন্য সরকারি উপবৃত্তির ঘোষণাও দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি— মেয়েদের পড়ালেখার ব্যবস্থা ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করবো। শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করবো না, একইসঙ্গে আমাদের যে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করবে, তাদের জন্য আমরা উপবৃত্তিরও ব্যবস্থা করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া শুরু হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক এই সুবিধা পাবেন।”
এছাড়া বেকারত্ব দূর করতে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পুনরায় চালুর আশ্বাস দেন তিনি।
ইমামদের সম্মানী, খাল খনন ও খেলোয়াড় তৈরি
মসজিদসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং ধর্মীয় গুরুদের জীবনমান উন্নয়নে সম্মানী ভাতা চালুর কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এতে কৃষকরা যেমন সেচের সুবিধা পাবেন, তেমনি মৎস্য ও হাঁস চাষের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”
এছাড়া যুবসমাজকে পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে দেশব্যাপী খেলোয়াড় বাছাই এবং ৫০০ জনকে সরকারিভাবে সম্মানী দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বৈরাচার বিদায়ের পর সব রাজনৈতিক দল মিলে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই সনদ’ সই করেছে। বর্তমান সরকার সংসদে এই সনদের প্রতিটি লাইন, প্রতিটি শর্ত পাস করবে।”
এ সময় তিনি একটি স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করে বলেন, “যারা স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেছিল, তারাই এখন ঢাকার বাইরে গিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সঙ্গে গোপনে মিটিং করছে। এরা জনগণের কথা ভাবে না, এরা বায়বীয় টিকিট বিক্রি করতে চায়। এদের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি আন্দোলনের নামে কীভাবে ১৭৩ দিন হরতাল করা হয়েছিল। মনে আছে আপনাদের ১৭৩ দিন কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এখনো আবার সেই ভূত আরেকজনের কাঁধে গিয়ে আছর করেছে, আপনাদের এই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।”
বিগত আন্দোলনে যশোরে শহীদ হওয়া ৬৮ জনসহ সারা দেশের গুম-খুন হওয়া নেতাকর্মীদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।”
জনসভার শেষ পর্যায়ে উপস্থিত লাখো জনতার উদ্দেশে তিনি স্লোগান ধরেন— “করবো কাজ, গড়বো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।”
দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম; স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম চৌধুরী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, অমলেন্দু দাস অপু, সাবিরা সুলতানা মুন্নি, মিজানুর রহমান খানসহ জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের নেতারা।
অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ
জনসভার আগে সকালে যশোরে দুটি কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে একটি হলো ৪৫ বছর পর ‘উলশী খাল’ (জিয়া খাল) পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন। অপরটি হলো ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুত যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।