মো: রমিজ আলী, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এর আগে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে একটি বিশাল বিজয় র্যালি সীতাকুণ্ড পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন বহন করে নেতাকর্মীরা “জয় বাংলা”, “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” ও “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করবো”—এমন নানা স্লোগানে মুখর করে তোলে পুরো পৌর এলাকা।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। এ সময় উপস্থিত সবাই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মহান বিজয় দিবসের ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণ করে বলেন,“১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অগণিত শহীদের আত্মত্যাগ এবং মা-বোনদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের স্বাধীন পতাকা। এই বিজয় কোনো একক দলের নয়—এটি সমগ্র বাঙালি জাতির।”
তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। শহীদদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করবে, ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে এবং বৈষম্যহীন সমাজে বসবাস করবে। আজ বিজয় দিবসে আমাদের শপথ—শহীদদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা।”
স্বৈরাচারী শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,“বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচারী শাসনামলে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতন, মামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। তবুও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আমরা কখনো মাথা নত করিনি। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।”
আগামী নির্বাচনের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,“জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমরা বিজয় অর্জন করবো এবং দেশের মানুষকে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ উপহার দেব ইনশাআল্লাহ।”
এ সময় তিনি আরও বলেন,“আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশনায়ক তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য নতুন আশার আলো জ্বালাবে।”
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।