চন্দনাইশ প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী ঘোষণা করেছেন, কোনো ধরনের অপপ্রচার বা চাপের মুখে তিনি নির্বাচন থেকে সরবেন না। 'মোটরসাইকেল' প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা এই সাবেক বিএনপি নেতা ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন পর্যন্ত মাঠে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
সম্প্রতি তাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন 'বিভ্রান্তিকর প্রোপাগাণ্ডার' জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং গণসংযোগকালে তিনি নিজের সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।
কেন্দ্রীয় নির্দেশে বসে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ
রাহী স্পষ্ট জানান, তাকে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে কোনো দলের প্রাথমিক সদস্য নন। ফলে কোনো কেন্দ্রীয় বা প্রভাবশালী নেতার নির্দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, "আমি কোনো সাংগঠনিক নির্দেশ মানতে বাধ্য নই। আমি জনগণের শক্তির ওপর ভরসা করে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে লড়ছি।"
ভোটের আগে কোনো সমঝোতা নয়
নির্বাচনের আগেই অন্য প্রার্থীর সঙ্গে আঁতাত বা সমঝোতার গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, "সমঝোতা যদি হয়ও, তা হবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের পরে। এখন আমার লক্ষ্য জনগণের রায় জানা, কোনো রাজনৈতিক দরকষাকষি নয়।"
দলীয় এজেন্ডা ও রাজনৈতিক অবস্থান
এলডিপি কিংবা জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষক পরিবারের সন্তান রাহী বলেন, ১৭-১৮ বছরের সক্রিয় রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি কখনো আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেননি। দীর্ঘ সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: "আমি কোনো গোষ্ঠী বা বিশেষ এজেন্ডার জন্য নয়, বরং নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান পরিষ্কার করতেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। জয়-পরাজয় যাই হোক, জনগণের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক আমৃত্যু অটুট থাকবে।"
মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের নির্বাচন
স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম রাহী বর্তমান দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "দীর্ঘদিনের দুঃসময়ের কোনো ত্যাগী রিকশাওয়ালাকেও যদি 'ধানের শীষ' দেওয়া হতো, আমি তা মেনে নিতাম। কিন্তু এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যিনি সুবিধাবাদী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি।"
শেষ বা মৃত্যুর আগে মাঠ ছাড়ছি না
নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "সৃষ্টিকর্তা যদি মৃত্যু না দেন, তবে পৃথিবীর কোনো শক্তি আমাকে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট থেকে সরিয়ে রাখতে পারবে না। আমি শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবো।"
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাহী বিশ্বাস করেন, ভোটাররাই তাদের যোগ্য প্রতিনিধি বেছে নেবেন এবং শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হবে।