মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি: যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে। ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের স্মরণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে’ পুস্পস্তবক অর্পণ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাবিপ্রবি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী।পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে প্রথম শহীদ হওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং পরবর্তীতে শহীদ মীর মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরাম, হৃদয় তারুয়া, ফরহাদ হোসেনসহ গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পরে শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ড. তৌহিদুল আলম।দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর কনফারেন্স কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোহাম্মদ জুনাইদ কবিরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, জুলাই আন্দোলনের মর্মার্থ ও স্পিরিট যদি আমরা ধারণ করতে না পারি, তবে এই আন্দোলন কখনো সফলতার মুখ দেখবে না। আমরা নিজেরাও আমাদের সন্তানদের পাশে এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি এবং স্বচক্ষে এর নির্মমতা দেখেছি। বাঙালি জাতির ইতিহাসই হলো যুগে যুগে বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একত্রিত হওয়া।শহীদদের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, শহীদদের আমরা আর ফিরে পাবো না, তবে তাদের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
জুলাই আন্দোলনে শহীদ বীর যোদ্ধা মোঃ ফরহাদ হোসেনের স্মরণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নামকরণ করা হয়েছে। আন্দোলনের পর অনেক পরিবার আজ দুঃসহ বেদনায় দিন পার করছে, রাষ্ট্র তাদের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ ইমরান হোসেন। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন এবং ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান মোসা. হাবিবা।
বক্তারা বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তাঁদের এই আত্মদান নতুন প্রজন্মকে বৈষম্যহীন সমাজ, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে আজীবন অনুপ্রাণিত করবে।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোহাম্মদ জুনাইদ কবির একটি নতুন, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সততা, নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীজন ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সাথে, বন্যা দুর্গতদের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রাণ বিতরণের জন্য বিলাইছড়ি ও বাঘাইছড়িতে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উক্ত আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোঃ ফখরুদ্দিনসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।