মো:সোহেল, আনোয়ারা প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার মেরিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার মানের অবনতি, অতিরিক্ত বেতন বৃদ্ধি, অনিয়ম ও গভর্নিং বডির দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। রবিবার (১৬ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশ নেন অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ডে লিখেন, “বেতন বৃদ্ধির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় চলবে না”, “শিক্ষার নামে বাণিজ্য নয়”, “বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন”, “যেখানে অনিয়ম সেখানে প্রতিরোধ”, “দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করুন, শিক্ষার মান নিশ্চিত করুন” এসব দাবি তুলে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
বক্তারা বলেন, নিয়মিত ফি’র বাইরে হঠাৎ করে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং এক বছরের মধ্যে দুই দফায় বেতন বাড়ানো পরিবারগুলোর ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া প্রশ্নফাঁস, অকৃতকার্যদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রমোশন দেওয়া, অতিরিক্ত সেশন ফি আদায়, গভর্নিং বডিতে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াসহ নানা অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, স্কুল ছুটির পর কিছু শিক্ষক কোচিংয়ের নামে বাণিজ্যিকভাবে ক্লাস পরিচালনা করছেন। কোনো কোনো পরীক্ষায় সিলেবাস একাধিকবার পরিবর্তন করা হয় এবং তা শিক্ষকরা নিজেদের মতো করে ঠিক করে দেন।
ছদ্মনামে শিক্ষার্থী মেহেরাজ বলেন, “ধর্ম ক্লাস, আইসিটি ক্লাস হয় না। এসব বিষয়ের কোনো শিক্ষকই নেই।”
অপর শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, “আমাদের কৃষি ক্লাস হয় না। দিবা শিফটে ১০ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র চারজন থাকেন। ফলে বহু ক্লাসই মিস যায়।”
অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত অর্থ প্রদান না করলে ফলাফল বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আটকে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকায় শিক্ষার্থীরা নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে মেরিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শেখ মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার বৈরাগ ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক মু. মোকাদ্দেস হোসেন, উত্তর বন্দর এলাকার ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, আনোয়ারা উপজেলা বিএনপি নেতা নাঈম উদ্দীন, অভিভাবক প্রতিনিধি মো. রহিম ও আহমদ হোসেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মেহেদী হোসেন চৌধুরী, জনাব রাইহান উদ্দিন, নুরুদ্দিন, জাহাঙ্গীর, ইকবাল, ফোরকানসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবকরা অভিযোগগুলো তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এই অনিয়ম–দুর্নীতি বন্ধ না হলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।