চন্দনাইশ প্রতিনিধি: চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নের ডেবারকুলে হযরত গাউসুল আজম বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) পরিষদের উদ্যোগে ১৬তম আজিমুশান ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, বিভিন্ন পীর–মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেছেন এ মাহফিলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এলডিপির সভাপতি ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের এলডিপি মনোনীত প্রার্থী এম এয়াকুব আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এয়াকুব আলী বলেন' মানুষকে প্রকৃত অর্থে শুদ্ধ হতে হলে প্রথম শর্ত হচ্ছে তার ইনকাম হালাল হওয়া। রোজগার হালাল হলে তবেই ইবাদত কবুল হয় আল্লাহর দরবারে। আর হারাম ইনকামের ওপর দাঁড়িয়ে যে পরিবার, সন্তান, সম্পদ গড়ে তোলা হয় সেগুলো কিয়ামতের ময়দানে মানুষের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবে।
তিনি আরও বলেন, হারাম বা অবৈধ আয় সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু শেষাবধি তা ইহকাল ও পরকাল দুই দিককেই ধ্বংস করে দেয়। তাই পরিবার-পরিজনের দায়িত্ব পালনের আগেই আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে রিজিকের উৎস বৈধ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরামগণ রাসুলুল্লাহ (সা.) এর জীবনাদর্শ, মানবকল্যাণ, সহমর্মিতা এবং নৈতিক সমাজ নির্মাণের গুরুত্ব নিয়ে তকরির পেশ করেন।মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহর আত্মশুদ্ধি, সামাজিক অবক্ষয় নিরসন এবং পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার ওপর জোর দেন বক্তারা।
চন্দনাইশ উপজেলা এলডিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও এডিশনাল পিপি এড. মাহাবুবুল আলমের সভাপতিত্বে মাহফিলে উদ্ধোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশ পৌরসভা এলডিপির সভাপতি আইনুল কবির, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এলডিপি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মনছুর আলম, বৈলতলী ইউনিয়ন এলডিপির সাধারণ সম্পাদক হাজী নুরুল আলম, ডেবারকুল ঐক্য সংঘের সভাপতি মোহাম্মদ কাইছার হোসেন , সমাজসেবক ইলিয়াস লিটন, আবদুল্লাহ জুয়েল।
মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে তকরির পেশ করেন আল্লামা আবুল কাশেম নুরী, বিশেষ বক্তা হিসেবে তকরির পেশ করেন মুফতি মাওলানা মুখতার আহমদ রজভী, মাওলানা নাজিম উদ্দীন নুরী ও মাওলানা মো. হোছাইন।
আরও বক্তব্য রাখেন মাহফিল পরিচালনা কমিটির সভাপতি এড. মো. মাহবুবুল আলম, গনতান্ত্রিক শ্রমিকদল চন্দনাইশ উপজেলার সভাপতি মো. ফোরকান, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুদ্দিন প্রমুখ।
রাতের শেষভাগে অনুষ্ঠিত বিশেষ মোনাজাতে দেশের শান্তি–সমৃদ্ধি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং সকলের হেদায়েত কামনা করা হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে হালাল-হারামের ব্যাপারে সচেতন থাকার দোয়া করা হয়।