প্রতিনিধি ৬ জুন ২০২৬ , ১২:০১:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টবাণী ডেস্ক: ইরানি পণ্য পরিবহনে জড়িত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পের জন্য আনা একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ। প্রায় ৬০ কোটি টাকার জাহাজটি কেনার জন্য এলসি খুলেছিল এসএন করপোরেশন।
১৯৯৭ সালে নির্মিত ১৮০ মিটার ও প্রস্থ ৩২ দশমিক ২ মিটার প্রস্থের ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার পালাউ পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘মেমেই’ গত ২৬ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের চার্লি অ্যাংকরেজে পৌঁছে। এরপর নিষেধাজ্ঞার খবর পেয়ে এখন জাহাজটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক, বন্দর ও কাস্টমসের ছাড়পত্র নিয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জাহাজটি বিক্রেতার কাছে পাঠানো হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসএন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক এবং জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট সোলার শিপিং লাইনসের সিইও তৌফিকুল ইসলাম।
মো. ওমর ফারুক বলেন, জাহাজটি আমরা বুঝে পাওয়ার আগেই ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হলো। আমরা এলসি করলেও ফান্ড রিলিজ করিনি।
তাই আমাদের লোকসান বলতে এলসির কমিশনটা। একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ কেনার পর চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর পর্যন্ত এনে আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব বা খরচ বিক্রেতার। জাহাজ আসার পর সরকারি ৫-৬টি দপ্তরের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন। এনওসি দেন। এরপর শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিচিং করা হয়। এ জাহাজটির ক্ষেত্রে এনওসি নেওয়ার আগেই আমরা জেনে গেছি নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি।
তৌফিকুল ইসলাম বলেন, জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে এসেছে ২৬ মে। এরপর ২৮ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। তাই এখন বাংলাদেশ ব্যাংক, বন্দর, কাস্টমসের এনওসি নিয়ে জাহাজমালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। সব প্রক্রিয়া শেষ করে জাহাজটি বন্দর ত্যাগে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। জাহাজটিকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে সেই সিদ্ধান্ত মূল মালিকই নেবেন।
জাহাজের আয়ু শেষ হওয়ার আগেই শেষ গন্তব্য নির্ধারণ হয় কোনো একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড। ভরা জোয়ারে অভিজ্ঞ পাইলটের তত্ত্বাবধানে সজোরে আঘাত হানে সৈকতে। যাকে বলা হয় বিচিং। এটা জাহাজটির জন্য আত্মহত্যারই শামিল। এরপর তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়ামের ধাতব পাত, মূল্যবান যন্ত্রপাতি, আসবাব, ইলেকট্রিক সামগ্রী খুলে নেওয়া হয়। পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে জাহাজ কেটে টুকরা টুকরা করা হয়। সেই লোহার পাত চলে যায় স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজের কাঁচামাল হিসেবে। তৈরি হয় নতুন ইস্পাতসামগ্রী।