মোঃ শহিদুল ইসলাম শহীদঃ টানা ভারী বর্ষণ এবং সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যা-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং মানবিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
তার অংশ হিসেবে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ইয়াসির আরাফাত হোসেনের দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে,ব্যাটালিয়নের মেডিকেল অফিসার মেজর তাবেঈন ইয়াসিয়াজ ভূঁইয়া, বিজিওএম, এএমসি-এর নেতৃত্বে থানচি উপজেলার টিএন্ডটি পাড়ার বন্যাকবলিত এলাকায় একটি বিশেষ বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হয়।
উক্ত মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হয়। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করা হয়, যা বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় জনগণ বিজিবির এই মানবিক উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এতে কয়েক গ্রামের মানুষ চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ গ্রহণ করেন।
বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে মানবিক সহায়তা, চিকিৎসাসেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, ত্রাণ বিতরণ এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করে আসছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা নিশ্চিত করাও বিজিবির অন্যতম অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও যেকোনো জাতীয় দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)।
এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিজিবির প্রতি আস্থা, বিশ্বাস ও ইতিবাচক মনোভাব আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে এবং পার্বত্য অঞ্চলে একটি দায়িত্বশীল, মানবিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে বিজিবির ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল ও সুদৃঢ় হচ্ছে।