Warning: Undefined variable $query in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Attempt to read property "post" on null in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Attempt to read property "ID" on null in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 70

Warning: Undefined property: WP_Error::$cat_ID in /home/jagosong/chattabani.com/wp-content/themes/j-news/single.php on line 92
মহানগর

ঈদের দিন ডেলিভারি শূন্য ছিল চট্টগ্রাম বন্দর

  প্রতিনিধি ১ জুন ২০২৬ , ১২:১৭:১০ প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টবাণী : দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে ঈদুল আজহার দিন ২৪ ঘণ্টায় (২৮ মে সকাল আটটা থেকে ২৯ মে সকাল আটটা পর্যন্ত) একটি কনটেইনারও ডেলিভারি হয়নি। ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন বন্দরে অপারেশনাল কার্যক্রম চালু থাকলেও ঈদের দিন এক পালায় (শিফট) আট ঘণ্টা ছুটি থাকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ডেলিভারি দিতে প্রস্তুত থাকলেও স্টেক হোল্ডারদের চাহিদা না থাকায় ডেলিভারি হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের দিন বন্দরে কনটেইনার ডেলিভারি শূন্য থাকা মানে সমন্বয়হীনতা।

বন্দরের স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় থাকলে এমনটি হতো না। আগামী দিনে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি যাতে না হয় এবং বন্দরের সমস্যা নিয়ে শিগগির চেম্বার থেকে মতবিনিময় ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একসময় বন্দর থেকে পণ্যের চালান ছাড় করতে ৭৩টি সই নিতে হতো। চিটাগাং চেম্বারের উদ্যোগে এ সংখ্যা কমিয়ে এখন ৯-১০টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে।
বন্দর, কাস্টম, এনবিআর ও সরকারের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করবে চিটাগাং চেম্বার। সরকারি-বেসরকারি সবাই মিলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সাপ্লাই চেইন স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ ও কৌশল নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা আশাকরি যত দ্রুত সম্ভব তৈরি পোশাক কারখানাসহ সব শিল্পকারখানা সচল হলে বন্দরের ডেলিভারি, হ্যান্ডলিংও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

বিজিএমইএর একজন সাবেক নেতা বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের দিন ব্যাংক রিলেটেড কার্যক্রম বন্ধ থাকে। বন্দরে এক পালায় আট ঘণ্টা বন্ধ ছিল। কাস্টমস খোলা ছিল ডেলিভারির জন্য। যেহেতু পোশাক কারখানাগুলোতে ঈদের ছুটি দীর্ঘ হয় তাই আগেভাগেই কাঁচামালের চালান খালাস করে নেওয়া হয়। রপ্তানি পণ্যও সময় হিসাব করে বন্দরে পৌঁছানো হয়। ঈদের আগে শিপমেন্টের চাপও বেড়ে যায়। কিছু পোশাক কারখানা ৪ জুন, কিছু ৫ জুন খুলবে। এর মধ্যে বন্দরে আমদানি রপ্তানি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের একজন নেতা বলেন, আমদানিকারকরা পণ্যের চালান খালাসের জন্য সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে, শুল্ক জমা দিয়ে, কাস্টমসের ছাড়পত্র পেলে বন্দরকে কনটেইনার ডেলিভারির অ্যাসাইনমেন্ট দেন। ঈদের ছুটির আগে বন্দর থেকে প্রচুর ডেলিভারি হয়েছে। কারণ দীর্ঘ ছুটির সময় কারখানা বন্ধ থাকে, তখন আমদানিকারকরা ডেলিভারি নেন না।

বন্দরের পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৪ মে ৩ হাজার ৯৭৯ টিইইউ’স (২০ ফুট দৈর্ঘ্য হিসেবে), ২৫ মে ৪ হাজার ৩১৭ টিইইউ’স, ২৬ মে ৩ হাজার ৩৭৫ টিইইউ’স, ২৭ মে ১ হাজার ৩২৬ টিইইউ’স, ২৮ মে ৬০৮ টিইইউ’স, ৩০ মে ৯৫০ টিইইউ’স কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে। ২৯ মে সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেলিভারি ছিল শূন্য। ওই দিন আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনার রিসিভড হয়েছে মাত্র ২০০ টিইইউ’স, জাহাজে তোলা হয়নি কোনো কনটেইনার।

২৮ মে সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনার রিসিভড হয়েছিল ১ হাজার ৪৩৯ টিইইউ’স, জাহাজে কনটেইনার তোলা হয়েছিল ২ হাজার ৩০৯ টিইইউ’স। মোট হ্যান্ডলিং ৩ হাজার ৭৪৮ টিইইউ’স। ৩০ মে সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বন্দর আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনার রিসিভড করেছে ২ হাজার ১৪৬ টিইইউ’স। জাহাজে কনটেইনার তোলা হয়েছে ৪ হাজার ৫৩৭ টিইইউ’স। মোট হ্যান্ডলিং ৬ হাজার ৬৮৩ টিইইউ’স।

চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে কনটেইনার ধারণক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার টিইইউ’স। এর বিপরীতে শনিবার (৩০ মে) সকাল আটটায় বন্দরে কনটেইনার ছিল ৪০ হাজার ৬৮৪ টিইইউ’স।

সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার ছুটির দিনগুলোতে বাণিজ্য সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তিনটি পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করেছে। সেগুলো মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জোনে কাজ করেছে। এগুলো হলো-বহির্নোঙরে বাল্ক পণ্য খালাস বা লাইটারিং তদারকি, জেটিতে কনটেইনার ওঠানামা ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সচল রাখা, বন্দরের জলসীমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় সব পয়েন্টে কাস্টমসের টিমও সক্রিয় ছিল। সেবা নিতে এলে যাতে ফেরত যেতে না হয়।

বন্দরের একজন শ্রমিক নেতা বাংলানিউজকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা সংকেতের ওপর নির্ভর করে বন্দর একপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জাহাজ জেটি থেকে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দেয়। তখন বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও ডেলিভারি বন্ধ থাকে। এ ছাড়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা হরতালের কারণেও বন্দর থেকে ডেলিভারিতে বিঘ্ন ঘটে। দুই ঈদে এক পালায় বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। নয়তো ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন সচল থাকে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম। এবার ঈদেও বন্দর প্রস্তুত ছিল ডেলিভারির জন্য। কিন্তু স্টেক হোল্ডাররা ডেলিভারি নিতে আগ্রহী না হওয়ায় হয়তো ডেলিভারি শূন্য ছিল।

আরও খবর 25

Sponsered content