প্রতিনিধি ১৫ জুলাই ২০২৬ , ১০:১৯:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ

খেলাধুলা ডেস্ক: ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে একে অপরের মুখোমুখি হয়নি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এর মধ্যে বদলে গেছে প্রজন্ম, বদলেছে তারকা, বদলেছে ফুটবলও।
কিন্তু দুই দেশের এই দ্বৈরথ ঘিরে আবেগ, ইতিহাস আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা একটুও কমেনি। ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’, বেকহ্যামের লাল কার্ড, ফকল্যান্ড যুদ্ধের ছায়া প্রতিবারই ফুটবলের সঙ্গে মিশেছে ইতিহাসের গল্প।
দীর্ঘ ২৪ বছর পর সেই দ্বৈরথ ফিরছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। এবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল, আর প্রথমবার এই লড়াইয়ের অংশ হতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০২ সালের ৭ জুন, জাপানের সাপ্পোরো ডোমে। ‘গ্রুপ অব ডেথ’ এর সেই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে।
তারও চার বছর আগে ফ্রান্স বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়া ইংল্যান্ড প্রতিশোধের সুযোগ খুঁজছিল। অন্যদিকে মার্সেলো বিয়েলসার আর্জেন্টিনা এসেছিল অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে।
ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় প্রথমার্ধের শেষের একটি মুহূর্ত। বক্সে মাইকেল ওয়েনকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পটকিক থেকে ডেভিড বেকহ্যাম ভুল করেননি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে লাল কার্ড দেখে যিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, চার বছর পর সেই বেকহ্যামই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে যেন নিজের সব হিসাব চুকিয়ে দেন।
গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা আক্রমণের ধার বাড়ায়। গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা, হার্নান ক্রেসপো, ক্লদিও ক্যানিজিয়া ও হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরনের মতো তারকারা একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ডেভিড সিমান সেদিন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।
সেই হারই কার্যত আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপযাত্রা থামিয়ে দেয়। শেষ ম্যাচে সুইডেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় আর্জেন্টিনাকে। অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সবচেয়ে বড় ফেবারিটদের একটি ছিল তারা। ইংল্যান্ড অবশ্য কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠলেও রোনালদিনিয়োর সেই বিখ্যাত ফ্রি-কিকের ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নেয়।
তবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের এই দ্বৈরথ ২০০২ থেকে শুরু হয়নি। এর শিকড় আরও গভীরে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস যুদ্ধ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যায়। এর চার বছর পর ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনা প্রথমে করেন ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, এরপর ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা একক গোল এটি।
সেই ম্যাচ অনেক আর্জেন্টাইনের কাছে ছিল যুদ্ধের প্রতীকী প্রতিশোধ। যদিও খেলোয়াড়রা বরাবরই এটিকে কেবল ফুটবলের লড়াই বলেই উল্লেখ করেছেন।
১৯৯৮ বিশ্বকাপে সেই বৈরিতা আবার নতুন করে সামনে আসে। ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড, মাইকেল ওয়েনের দুর্দান্ত গোল, আর শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার জয়। সব মিলিয়ে সেটিও জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচগুলোর তালিকায়।
এরপর কেটে গেছে ২৪ বছর। এবার আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা হচ্ছে দুই দলের। তবে এবার লড়াইটা আরও বড়, আটলান্টায় ফাইনালে ওঠার।
এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির জন্যও আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। বিশ্বকাপে বহু ঐতিহাসিক ম্যাচ খেললেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনও মাঠে নামা হয়নি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। ২০০২ সালে তিনি দলে ছিলেন না। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক হলেও ইংল্যান্ডের সঙ্গে আর দেখা হয়নি। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ খেললেও কোনো আসরেই দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হয়নি। ফলে প্রায় দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছেন মেসি।
৩৯ বছর বয়সেও চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন তিনি। পাঁচ ম্যাচে করেছেন ৮ গোল, সঙ্গে আছে দুটি অ্যাসিস্ট। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে সবার ওপরে আছেন।