প্রতিনিধি ১২ জুলাই ২০২৬ , ১২:২৭:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ

মোঃ হেলাল উদ্দীন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের মেঠো পথ থেকে কদম ফুল আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। যান্ত্রিক সভ্যতা, নির্বিচারে গাছ কাটা এবং নতুন করে কদম গাছের রোপন না করায় বর্ষার এই সুগন্ধি দূত এখন প্রকৃতি থেকে বিলীন হওয়ার দ্বার প্রান্তে।
বর্ষার আগমনী বার্তা আর কদম ফুলের সুবাস-এ যেন এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক।কিন্তু কালের আবর্তে নাচোলের মেঠো পথ ও গ্রামীণ এলাকার বুক থেকে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে সুগন্ধি ছড়ানো অপরূপ সুন্দর কদম ফুল। একসময় নাচলের বিভিন্ন গ্রামের মেঠো পথের ধারে, বাড়ির আঙিনায় কিংবা পুকুর পাড়ে কদম ফুলের মৌ মৌ গন্ধ পথচারীদের মুগ্ধ করত। কিন্তু আজ সেই চিরচেনা দৃশ্য অনেকটাই দুর্লভ।
শ্রাবণের আগমনে চারিদিকে স্নিগ্ধের বৃষ্টি আর সবুজ পাতার মাঝে নিজের রূপের পসরা সাজিয়ে বসতো কদম ফুল। হলুদ ও সাদার অদ্ভুত মিশ্রণে তৈরি সুগন্ধি ফুলটি প্রকৃতিকে প্রাণবন্ত করে তুলতো।
কদম গাছ কেবল রূপ ও গুণেই অনন্য নয়, এর ফুল, ফল, পাতা এবং ছাল ঔষধি বা ভেষজ গুনে ভরপুর। প্রাচীনকাল থেকে আয়ুর্বেদ ও লোকজ চিকিৎসায় বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে কদম গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার হয়ে আসছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, রক্তে শর্করা মাত্রা বা গ্লুকোজ কমাতে, শরীরে ইনসুলিনের উপাদান স্বাভাবিক রাখতে সহায় ভূমিকা পালন করে। কৃমির উপদ্রব কমায়, ডায়রিয়া ও আমাশয় নিরাময় করে।
ক্ষত ও চর্ম রোগ নিরাময়, মুখের ঘা ও দুর্গন্ধ দূর করে। জ্বর ও ব্যথা উপশম, লিভারের সুরক্ষা ও শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে। তবে এসব ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়।
তাছাড়া শৈশবকালে কদম ফুল কুড়ানো যেন স্মৃতির পাতায় লেখা থাকে। গ্রামের শিশুদের কাছে কদম ফুল কেবল একটি ফুল নয় বরং একরাশ আনন্দের প্রতীক হিসাবেও বিবেচিত ছিল। কদম গাছকে ঘিরে তাদের মধ্যে গভীর রোমান্স ও আবেগ কাজ করতো। কচি হাতে ঝরা কদম কুড়ানো, সুগন্ধ নেওয়া এবং মালা গাথার মধ্যে তারা বর্ষার আসল আনন্দ খুঁজে পেতো।
পরিবেশবিদদের মতে, মেঠো পথ থেকে হারিয়ে যাওয়া কদম ফুলের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং স্থানীয়ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।